বরিশাল বিভাগে এক বছরে সয়াবিন আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ

বরিশাল বিভাগে বেড়েছে সয়াবিনের আবাদ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রবি মৌসুমে এ বিভাগে আগের অর্থবছরের তুলনায় সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ।

লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক ধান ও অন্যান্য রবি ফসলের পরিবর্তে এখন সয়াবিন চাষ বেছে নিচ্ছেন।

ডিএইর বরিশাল কৃষি অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সয়াবিন আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার হেক্টরে। এদিকে চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৪২ হাজার ৪৮৬ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে ৪২ হাজার ৩৬৩ হেক্টর জমিতে আবাদ শেষ হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সয়াবিনের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে সেচ ও সারের প্রয়োজন বেশি, সেখানে বিকল্প ফসল হিসেবে সয়াবিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইরি-বোরো ধান চাষের তুলনায় সয়াবিনে উৎপাদন খরচ অনেক কম। হেক্টরপ্রতি ধান চাষে যেখানে ৮৫-৯৫ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে সয়াবিন আবাদে খরচ পড়ছে ৪৫-৫৫ হাজার টাকা। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ দশমিক ৪ থেকে ১ দশমিক ৮ টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন ৬৫-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল সদর উপজেলার কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ধান চাষে খরচ বেশি কিন্তু লাভ কম। সয়াবিনে খরচ প্রায় অর্ধেক, আবার লাভও তুলনামূলক বেশি। সেজন্য তারা সয়াবিন আবাদের দিকে ঝুঁকছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়লে এ খাতের আমদানিনির্ভরতা অনেক কমবে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থে ইরি-বোরো ধানের আবাদ ধরে রাখাও জরুরি। পরিকল্পিত ফসল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি খাতে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।’

আরও