উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ

চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্ভাবনাও দেখছে ডিসিসিআই

জাতিসংঘের ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএন সিডিপি) কমিটি তাদের দ্বিতীয় পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করেছে। এ স্বীকৃতি অর্জন করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ঢাকা চেম্বার মনে করে, স্বল্পোন্নত ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশকেই বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়, বাংলাদেশকেও করতে হবে।

জাতিসংঘের ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএন সিডিপি) কমিটি তাদের দ্বিতীয় পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করেছে। স্বীকৃতি অর্জন করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ঢাকা চেম্বার মনে করে, স্বল্পোন্নত ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশকেই বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়, বাংলাদেশকেও করতে হবে। পাশাপাশি তারা এখানে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনাও দেখছে।

বাংলাদেশ এরই মধ্যে তিনটি মূল সূচক মাথাপিছু আয় ( হাজার ২৩০ ডলারের বিপরীতে হাজার ৮২৭ ডলার), মানবসম্পদ (৬৬ পয়েন্টের বিপরীতে ৭৫. পয়েন্ট) অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা (৩২ পয়েন্টের চেয়ে কম ২৭ পয়েন্ট) সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আনন্দঘন মুহূর্তে এমন সুখবর সম্মানজনক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত এক দশকে সামাজিক অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুগান্তকারী অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশেষ করে কভিড-১৯ মহামারী সময়কালেও বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা অর্থনীতির মধ্যকার সমন্বয় খুব সফলতার সঙ্গে সমন্বয় করতে পেরেছে। ওই সময়ে বর্তমান সরকার করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং বেশ সফলভাবে এর বাস্তবায়ন করেছে। ইউএন সিডিপি কমিটি কর্তৃক দ্বিতীয় মূল্যায়নে বাংলাদেশে এরই মধ্যে অর্জিত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের প্রত্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান সরকার গৃহীত ভিশনগুলোর সাফল্য প্রতিফলিত হয়েছে বলে ঢাকা চেম্বার মনে করে।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ডিসিসিআই এক বিশ্লেষণে জানায়, স্বল্পোন্নত ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশকেই বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউরোপসহ বেশকিছু দেশে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে শুল্ক কোটামুক্ত সুবিধা পাবে, তবে এলডিসি হতে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে আইপিআর এবং ট্রিপস চুক্তির আওতায় শর্তাবলি শিল্পের কমপ্লায়েন্স মেনে চলার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। উপরন্তু মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে রফতানি বাজারে অন্যান্য মধ্যম আয়ের দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি উন্নত দেশগুলো থেকে প্রাপ্ত অগ্রাধিকার বিশেষ সুবিধা কমে আসবে, রফতানির বাজারে সম প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি হ্রাস পাবে এবং ছোট ছোট স্থানীয় শিল্পে সহায়তা কমে আসতে পারে।

চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আশা দেখছে ডিসিসিআই। তারা বলছে, রফতানিমুখী উৎপাদন খাতের এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে আমাদের উৎপাদন খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এলডিসি থেকে বাংলাদেশের সফল উত্তরণের পর বাংলাদেশ স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পেতে পারে, ক্রেডিট রেটিংয়ে উন্নতি সাধিত হবে, বেসরকারি খাত আরো প্রতিযোগী হতে পারবে, উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং কমপ্লায়েস ইস্যুতে বাংলাদেশের আরো দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। উপরন্তু অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপে নিজেদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করতে পারবে এবং সর্বোপরি শক্তিশালী আইপিআর অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা আগ্রহ বাড়বে।

ঢাকা চেম্বার বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি অথবা আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা, বাণিজ্য মধ্যস্থতায় দক্ষতা অর্জন, ট্রিপস চুক্তির শর্তাবলি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি গ্রহণ করা, হাই ভ্যালু প্রডাক্ট ডিজাইন ইনোভেশন সেন্টার স্থাপন, আন্তর্জাতিক মান স্বীকৃতি গ্রহণে সহায়তা করা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আফ্রিকার বাজার অন্বেষণ, এফডিআই আকর্ষণে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, রাজস্ব কাঠামোর অটোমেশন আধুনিকায়ন, কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি, সাপ্লাই চেইন লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

আরও