যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনে জরুরি জ্বালানি সারচার্জ (ইএফএস) বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিপিং ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান মায়ের্স্ক। ১২ অক্টোবর থেকে এ মাশুল বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
কোপেনহেগেনভিত্তিক ডেনিশ প্রতিষ্ঠান মায়ের্স্ক গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিতভাবে এ সারচার্জ পর্যালোচনা করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পর পরই মায়ের্স্ক এ ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। এ পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল বিভিন্ন দেশে পরিবহন করা হয়। সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে। ফলে তেলের দামেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় সমুদ্রাঞ্চলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বেড়ে যায়। এতে শিপিং ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন খরচ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের জন্য এসব সেবার ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাড়তি ব্যয় বহন করতে হতে পারে।
মায়ের্স্ক জানিয়েছে, নতুন সারচার্জ কতদিন কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেয়া হয়নি। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে এ মাশুলের হার পর্যালোচনা করবে।