দেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি হলেও এ খাত থেকে রফতানি আয় তুলনামূলক কম। কৃষি রফতানি খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এ প্রেক্ষিতে কৃষি রফতানিতে ১৫ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৩ মে) ‘কৃষিতে বাজেট ২০২৫-২৬: টেকসই প্রবৃদ্ধির রূপরেখা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে সেমিনারটির আয়োজন করে কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ ও আমেরিকায় কৃষিপণ্য রফতানির জন্য প্রয়োজনীয় মান নিশ্চিত করতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। থাইল্যান্ড ২০২৩ সালে কৃষিপণ্য রফতানি করে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ছিল প্রক্রিয়াজাত পণ্য। বাংলাদেশ সেখানে ঢের পিছিয়ে। প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রফতানি উৎসাহে এ খাতে ১৫ শতাংশ প্রণোদনা সহায়তা দেয়া দরকার।’
এছাড়া বেনাপোল, সিলেট ও চট্টগ্রামে রফতানি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যেহেতু কৃষিনির্ভর দেশ, তাই কৃষি নিয়ে অনেক গবেষণা প্রয়োজন। যাতে কৃষির সংকট ও সংকট থেকে উত্তরণের উপায়গুলো বেরিয়ে আসে।’
গ্রামে কৃষিজমি ক্রমান্বয়ে কমে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ টাকা উপার্জন করলেই কৃষিজমির ওপর বাড়ি তৈরি করছে। ফলে কৃষিজমি কমে আসছে। কীভাবে কৃষিজমি রক্ষা করা যায়, সে চিন্তা করতে হবে আমাদের।’
কৃষিকে অর্থনীতির মূল জায়গায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্সের পরই কৃষির অবস্থান। কৃষির এ জায়গাটা আমাদের ধরে রাখতে হবে, যাতে কোনোভাবে পিছিয়ে না যাই। উন্নত দেশগুলোও এখন কৃষিনির্ভর হচ্ছে। কৃষি যেকোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
পায়রা বন্দরকে দেশের জন্য বিষফোঁড়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলেও অনেক কাজ করতে পারে না, যেমন- পায়রা বন্দর। এর ফলে দেশের অনেক কিছুর ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু এ বিষফোঁড়াকে উপড়ে ফেলা যাচ্ছে না, কারণ এর সঙ্গে অনেক কিছু যুক্ত হয়ে আছে।’
প্রয়োজন হলে আইএমএফ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আইএমএফ হলো আইসিইউর মতো—যখন কোনো প্রতিষ্ঠান রুগ্ন হয়ে যায়, তখন তাকে আইএমএফের দ্বারস্থ হতে হয়।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি মো. আহসানুজ্জামান লিন্টু। কৃষিঋণ বাড়ানোর প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের বাজেটগুলো ছিল ব্যয়ের বাজেট—বেশি বেশি খরচ দেখিয়ে বেশি লুট করা হতো। সে জায়গা থেকে ফিরে আসতে হবে। কৃষি খাতে মৌলিক কিছু সংস্কার হলে কৃষির ওপর মানুষ দাঁড়াতে পারবে।’