বিজিবিএর আলোচনা সভায় ব্যবসায়ীরা

নিরাপত্তা ছাড়া কারখানা চালু রাখা সম্ভব নয়

তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কারখানা চালু রাখা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কারখানা চালু রাখা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দাবি করেন, বহিরাগতদের দ্বারা সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জেরে গতকাল অন্তত ১০০-১২৫টি কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন মালিকরা। পাশাপাশি গ্যাস বিদ্যুতের সংকট ব্যাংকখাতে চলমান অস্থিরতা রফতানিমুখী খাতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।চলমান পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতের সংকট উত্তরণের উপায় শীর্ষক আলোচনা সভায় তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা  না গেলে কারখানা চালু রাখা সম্ভব নয়। আগামীকাল (আজ) নাগাদ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা না গেলে আরো কারখানা বন্ধ রাখতে হবে। ফলে কিছুদিন পর ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করবে।

তিনি বলেন, ‘যারা টাকা নেয়ার তারা টাকা নিয়ে চলে গেছেন। এখন যদি সিআইবি নিয়ে টানা-হেঁচড়া করা হয়, তাহলে যারা উৎপাদনে আছেন তারা বিপদে পড়বেন। তাদের যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, তাহলে তো সব থেমে যাবে। এমন একটা সময় আসছে, আমাদের ব্যবসায়ীদেরও তো আন্দোলনে যেতে হবে। না হলে তো সরকার বুঝবে না।

আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কথা বলেন। ব্যবসায়ীদের নীতি-নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নীতি-নৈতিকতা আসবে তো রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে। একটি দেশে রাজনীতিবিদরা যদি নৈতিক না হন, তাহলে সমাজে নৈতিকতা আসবে কীভাবে। ব্যবসায়ীরা সম্পদ সৃষ্টি করে দেশে নিয়ে আসছেন। তাহলে আপনি সেটি বিনা কারণে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছেন কেন।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আরো বলেন, ‘আপনি পরিসংখ্যানের দিকে যদি তাকান, কোন উপজেলায় ছাগলের সংখ্যা কত আছে, কোথায় নারিকেল গাছ কয়টা আছে সব সুন্দরভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু রফতানি কত, আমদানি কত, পরিসংখ্যান সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে দিতে পারেনি। গত ১০ বছরে এটা এমন এক পর্যায়ে গেছে যে আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত। এসব পরিসংখ্যান দিয়ে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দেখা যায় ওই পরিসংখ্যান ভুল। এখন এর দায় কার, ব্যবসায়ীদের নাকি রাজনীতিবিদদের সেটি বের করা দরকার। যে দেশে রাজনীতি ঠিক হবে না সে দেশে অর্থনীতি ঠিক হবে, এটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য থিওরি না।

স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে যারা কারখানার সামনে জড়ো হচ্ছেন, তাদের অনেকের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের কারো কথার সঙ্গে কারো কথার মিল নেই। বেশির ভাগই জানেন না তারা কেন এসেছেন। কয়েকজন বলছেন তারা চাকরির জন্য এসেছেন। অথচ কারখানার সামনে নোটিস টাঙানো আছে কর্মখালি নাই। আমাদের কয়েকজন বলছেন কারখানা বন্ধ রাখতে, না হলে অসুবিধা হবে। এরা কেউই গার্মেন্টস শ্রমিক নন। আমাদের শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না, কারখানায় প্রবেশ করতে পারছেন না। বহিরাগতদের অনবরত হুমকি আর রাস্তা বন্ধ রাখার কারণে আমরা কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি।

চলমান পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী পোশাক খাতের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির কারণে আমাদের অনেক ক্রেতা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন, ক্রয়াদেশ আসছে না। ১০০-১২৫টির মতো কারখানা শুধু আজই (গতকাল) বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সংখ্যা আরো বাড়বে। বিদেশী অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে আসার জন্য সময় দিয়েছিলেন। এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তারাও আসতে পারছেন না।

কারা এসব করাচ্ছে সেটি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেশের রফতানিমুখী পোশাক খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী।

আরও