বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা বাড়ছে খাদ্য ও পানীয়ের বাজারে। এ দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পণ্যের স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ বাড়ানো এবং ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে জোর দিচ্ছে বড় ব্র্যান্ডগুলো। স্বাস্থ্যকর নতুন পণ্য বাজারে আনা, উপাদানের তালিকা সহজ করা ও পণ্যের গুণমান সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য দেয়ার মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান খাদ্য ব্র্যান্ডের অবস্থান ধরে রেখেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি নেসলে।
ব্র্যান্ড মূল্যায়ন ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের বার্ষিক ফুড অ্যান্ড ড্রিংক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য, কোমল পানীয় ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্র্যান্ডগুলোর আর্থিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
এতে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত নেসলের ব্র্যান্ড ভ্যালু গত বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৫৮ কোটি ডলারে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান খাদ্যপণ্যের ব্র্যান্ডের অবস্থান ধরে রেখেছে কোম্পানিটি।
স্বাস্থ্য সচেতন পণ্যে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি নেসলের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোয়ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি বছর শিশুদের পানিশূন্যতা মোকাবেলায় বিশেষ পানীয় বাজারে এনেছে কোম্পানিটি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পণ্যে কৃত্রিম রঙ ব্যবহার বন্ধ করেছে নেসলে। আর যুক্তরাজ্যে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতিতে চাষ করা গম দিয়ে কিটক্যাট চকোলেট তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রিবায়োটিকযুক্ত পানীয় বাজারে এনেছে নেসলে ইউএসএ। এছাড়া শিশুদের প্রাথমিক পুষ্টির মান বাড়াতে বিশেষ প্রোটিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘হেলাইনা’-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।
নেসলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিলিপ নাভরাতিলের মতে, ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি অর্জনে একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করলে চলে না। উন্নত পণ্য, শক্তিশালী ব্র্যান্ড, উপযুক্ত মূল্য, দোকান ও অনলাইন প্লাটফর্মে পণ্যের মজুদ এবং ক্রেতাদের সঙ্গে স্পষ্ট যোগাযোগ সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্র্যান্ড ভ্যালুতে নেসলের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পেপসিকোর মালিকানাধীন চিপস ব্র্যান্ড লে’জ। গত বছর ব্র্যান্ডটির মূল্য ছিল ১ হাজার ২৭২ কোটি ডলার। চলতি বছর তা প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। পণ্যের উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছতা ও সহজবোধ্য উপাদান তালিকা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ব্র্যান্ডটি। —খবর ও ছবি ফুড বিজনেস