চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও টেকসই পুনরুদ্ধারে ১০ কোটি টাকার বিশেষ মানবিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। এ অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, স্কুল সংস্কার এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এ পুনর্বাসন উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক স্বরূপ কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এ উদ্যোগের আওতায় এইচএসবিসি বাংলাদেশের অর্থায়নে সাত মাসব্যাপী পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে ব্র্যাক। এর মধ্যে ছয় মাস মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা এবং এক মাস চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরিতে ব্যয় হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ জেলায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ধস ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ১০ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পানির উৎস ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পুনর্বাসন কর্মসূচিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও জীবিকাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় ৫০টি স্কুল মেরামত ও সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। এছাড়া ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, ৪০০টি ল্যাট্রিন মেরামত ও স্থাপন এবং ৩০টি টিউবওয়েল সংস্কার করা হবে। জীবিকা পুনর্গঠনে সহায়তা দেয়া হবে ৩০০টি অসচ্ছল পরিবারকে। পাশাপাশি ৬০০টি ঝুঁকিপূর্ণ কৃষক পরিবারকে কৃষি উপকরণ দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান এবং ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বক্তব্য দেন।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ব্যাংকে আমাদের দায়িত্ব কেবল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমরা যে জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করি, ব্র্যাকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাদের জীবনের মানোন্নয়নেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা গড়ে তুলতে আমরা তাদের বাসস্থান, জীবিকা ও জরুরি সেবাগুলোতে বিনিয়োগ করছি।
ব্র্যাকের মো. লিয়াকত আলী বলেন, বরাবরের মতো এ দুর্যোগেও ব্র্যাক তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। দুর্যোগে তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর জীবন ও জীবিকা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা, জীবিকা এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রকল্প বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জীবন ও জীবিকা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরো নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দুর্যোগ-সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সাত মাসব্যাপী এ পুনর্বাসন কর্মসূচিতে নারীপ্রধান পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে এমন পরিবার, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং সমাজের অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু-সহনশীল সমাধান ও টেকসই উন্নয়ন গড়ে তোলাই এ যৌথ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।