দেশে উৎপাদন আশানুরূপ না হওয়ায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানিনির্ভর পণ্য দুটির দাম বেশ কয়েক মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। কোরবানিকে সামনে রেখে আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে শুকনা মরিচ ও হলুদের বাজার।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, বর্তমানে দেশী শুকনা মরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০-৪০০ টাকায়। আমদানি হওয়া ভারতীয় শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৪০-৪৬০ টাকায়। ২০২৫ সালের একই সময় দেশী শুকনা মরিচের কেজিপ্রতি খুচরা দাম ছিল ২৫০-৩৩০ টাকা ও আমদানীকৃত শুকনা মরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৮০-৪৩০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৭০-১১০ টাকা এবং আমদানীকৃত মরিচের কেজিপ্রতি ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা।
একইভাবে দেশীয় আস্ত হলুদের দামও খুচরা বাজারে বেড়েছে। বিশেষ করে দেশীয় হলুদ খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০০-৩৫০ টাকায়। যদিও আগের বছরের একই সময় আস্ত হলুদ বিক্রি হয়েছিল ২৫০-৩০০ টাকায়। আমদানীকৃত আস্ত হলুদও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা বেড়ে লেনদেন হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা দরে। এদিকে পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেজিপ্রতি শুকনা মরিচের দাম এক-দুই মাস আগেও বিক্রি হয়েছিল সর্বনিম্ন ১০০-১৫০ টাকার মধ্যে।
খাতুনগঞ্জের চাক্তাই এলাকার মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কাউসার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশীয় চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ হলুদ ও মরিচ ভারত থেকে আমদানি হয়। ভারতীয় আস্ত হলুদ ও মরিচের আকার ও দেখতে চকচকে হওয়ায় দেশীয় বাজারে চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে।’
সরবরাহস্বল্পতায় ভারতীয় মসলাপণ্য দুটির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশী মরিচ ও হলুদের বাজার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অস্বাভাবিক বাড়তির দিকে বলে জানিয়েছেন তিনি।