মূলত আবহাওয়ার বৈরী রূপ এল নিনোর প্রভাবে আগামী দিনগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তন আগামী দিনগুলোয় চাল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করতে পারে। এমন আশঙ্কায় ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের বাজারে চালের রফতানি মূল্য বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারতের বাজারে দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।
ভিয়েতনামে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম বেড়ে প্রতি টন ৪১৫-৪২০ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪০৫-৪১০ ডলার।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন-আগস্টের মধ্যে আবহাওয়ায় এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ৮০ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি আরো সতর্ক করেছে, এ পরিস্থিতি অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ। ফলে এশিয়াজুড়ে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
আবহাওয়ার এ হুমকির মধ্যেই ভিয়েতনামের চাল রফতানি বেশ ইতিবাচক ছিল। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত মে মাসে দেশটিতে ৯ লাখ ২৫ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। এর মাধ্যমে বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভিয়েতনামের মোট চাল রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখ টনে।
এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রফতানিকারক দেশ ভারতে চালের দাম এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত ছিল। দেশটিতে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের দাম প্রতি টন ৩৩৭-৩৪৫ ডলারে স্থির ছিল। এছাড়া ৫ শতাংশ ভাঙা আতপ চালের দামও ৩৩৮-৩৪৪ ডলারের মধ্যে স্থির ছিল।
থাইল্যান্ডেও ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম প্রতি টন ৪৫০ ডলারে শক্ত অবস্থানে ছিল। ব্যাংককের ব্যবসায়ীরা জানান, পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খুদ বা ভাঙা চালের দাম বাড়ায় মূল চালের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্থানীয় ভোক্তা ও চাষী উভয়ই বিপাকে পড়েছেন। দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহের কারণে চলমান বোরো ধান কাটার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ধানের ফলন কমে যাচ্ছে এবং প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় ফসল দ্রুত শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে।
এ দাবদাহের আগেই অবশ্য দেশের কৃষকেরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছিলেন। মৌসুম শুরুর আগের ভারি বৃষ্টিপাতে দেশজুড়ে দুই লাখ টনেরও বেশি চালের ক্ষতি হয়েছে। আগের সেই ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমানের তীব্র দাবদাহ সব মিলিয়ে দেশের বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে স্থানীয় বাজারে চালের দাম এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।