জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবমূল্যায়ন ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটির স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। খবর জাপান টুডে।
ক্রেডিট গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টোকিও শকো রিসার্চের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অন্তত ১ কোটি ইয়েন ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেউলিয়া হওয়ার হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। জানুয়ারি-জুনের মধ্যে দেশটিতে দেউলিয়া হয়েছে মোট ৫ হাজার ৩৪৬টি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিক সংকটে আগামী শরৎকাল থেকে এ পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অতি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো। মোট দেউলিয়া হওয়া প্রতিষ্ঠানের ৯০ শতাংশেরই কর্মীর সংখ্যা ১০ জনের কম। এছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ইয়েনের নিচে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অতিরিক্ত মজুরি দেউলিয়া হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সমীক্ষায়। মূল্যস্ফীতির কারণে দেউলিয়া হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৯টিতে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটে দেউলিয়া হয়েছে ২৩৭টি প্রতিষ্ঠান, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শ্রমিকদের বাড়তি মজুরি দিতে গিয়ে দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা প্রায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেড়েছে।
খাতভিত্তিক বিচারে ১০টি খাতের মধ্যে আটটিতেই দেউলিয়া হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সেবা খাতে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮১৯টি এবং নির্মাণ খাতে ১ হাজার ২৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। গ্রাহকরা খরচ কমিয়ে দেয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে রেস্তোরাঁ ও খাদ্য বিক্রেতারা। শুধু জুনেই দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২১টিতে পৌঁছেছে, যা ২৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।