তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি কারকদের জন্য প্রস্তাবিত গ্যাস সংরক্ষণের নিয়ম শিথিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন প্রস্তাবে রফতানি কারকদের উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ গ্যাস দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। তবে কতটা গ্যাস সংরক্ষণ করা হবে, তা নির্ধারণ করবে দেশটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থায় রফতানিকারকরা বছরে অতিরিক্ত ২০০ পেটাজুল গ্যাস সরবরাহ করতে পারবেন। দেশটির জ্বালানি বাজার পরিচালনাকারী সংস্থা সর্বোচ্চ ১৪০ পেটাজুল গ্যাসের ঘাটতির আশঙ্কা করেছিল। তাই নতুন ব্যবস্থা ওই ঘাটতি এড়াতে যথেষ্ট হবে বলে মনে করছে সরকার।’
বোয়েন বলেন, ‘এ নীতির লক্ষ্য হলো গ্যাসের দাম তুলনামূলক কম রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার চেয়ে কিছুটা বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করা।’
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের গ্যাস বাজারে প্রায় এক দশক ধরে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। নতুন নীতিতে সেখানে প্রত্যাশিত চাহিদার ১১০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এতে সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে বলে সরকার আশা করছে।
নতুন নিয়ম কার্যকর করার সময়ও ছয় মাস পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এলএনজি রফতানিকারকদের ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে।
অঞ্চলভেদে সংরক্ষণের নিয়মও আলাদা হবে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ১৫ শতাংশ গ্যাস সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলকে প্রায় পুরোপুরি ছাড় দেয়া হবে। সেখানে ২০ শতাংশ গ্যাস সংরক্ষণ স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে সরকার মনে করছে।
অরিজিন এনার্জি, শেল ও স্যান্টোসের পরিচালিত পূর্ব উপকূলের তিনটি এলএনজি প্রকল্প নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে। তবে বিদ্যমান চুক্তিগুলো এর বাইরে থাকবে।
সরকার ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রস্তাবটির ওপর মতামত চেয়েছে। গ্যাস উৎপাদকদের সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান এনার্জি প্রডিউসার্স পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেছে, অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহে দাম কমে গেলে নতুন গ্যাস উৎপাদনে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।