২০১৭ সালের ৪ মে যাত্রা করা এ প্লাটফর্মে এখন দেশের পাঁচ লাখ নারী ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন। একটি সাধারণ ব্যাংকিং সেবা হিসেবে শুরু হলেও গত নয় বছরে ‘তারা’ পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ইকোসিস্টেমে। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে নারীদের রিটেইল ডিপোজিটের প্রায় ২৫ শতাংশই এ প্লাটফর্মের অধীনে। ব্র্যাক ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
‘তারা’ মূলত দুটি স্তম্ভের ওপর পরিচালিত হয়, ‘তারা রিটেইল’ ও ‘তারা এসএমই’। রিটেইল বিভাগে কর্মজীবী নারী, গৃহিণী, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণীর নারীর জন্য আলাদা সেবা রয়েছে। বর্তমানে সাড়ে তিন লাখ নারী গ্রাহকের মোট আমানতের পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত নয় বছরে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ৮০ গুণ এবং আমানত বেড়েছে ৬০ গুণেরও বেশি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘হোমমেকার্স অ্যাকাউন্ট’, যা আয়ের প্রমাণ ছাড়াই গৃহিণীদের ব্যাংকিং সুবিধার দরজা খুলে দিয়েছে। এ বিভাগের ৯৮ শতাংশ গ্রাহককে ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ইকেওয়াইসি) নিবন্ধন করা হয়েছে।
‘তারা এসএমই’ বিভাগ এখন ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি নারী উদ্যোক্তাকে সেবা দিচ্ছে। এ বিভাগে ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৬০০ কোটি এবং আমানত ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত এক বছরে আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭২ শতাংশ। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য হলো নারী উদ্যোক্তাদের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ১ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা নারীদের ঋণ প্রদানকে ব্যাংকের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে প্রমাণ করে।
উদ্যোক্তা সক্ষমতা বাড়াতে ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা’য় এ পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি নারী অংশ নিয়েছেন। ‘উদ্যোক্তা ১০১’ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০০-এর বেশি নারী উদ্যোক্তাকে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মার্কেটিং ও আর্থিক দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুই হাজার নারী উদ্যোক্তাকে বিনামূল্যে এক বছরের জন্য ইআরপি সফটওয়্যার সরবরাহ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ‘তারা’ বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যালায়েন্স ফর উইমেন থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং ২০২৪ সালে আইএফসি আয়োজিত গ্লোবাল এসএমই ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ডসে বৈশ্বিক ও এশিয়া উভয় ক্যাটাগরিতে প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘নারীরা ব্যাংকিং সেবার কোনো খণ্ডিতাংশ নয়, বরং তারা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সেগমেন্ট, যারা পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা পাওয়ার দাবিদার। আমাদের লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি, এটি এক নতুন সম্ভাবনার সূচনা মাত্র। নারীদের আর্থিক প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকবে ব্র্যাক ব্যাংক তারা।’