পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেন সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিঠির জবাবে এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৭ টাকা ৯০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ১০ পয়সায়। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১৬ টাকা ৭০ থেকে ২৯ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৬ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৩ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সাড়ে ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছিল তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ। এ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩১ টাকা ১২ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সাড়ে ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছিল তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ। এ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩০ টাকা ৭৪ পয়সায়।
তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ মাইনাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-থ্রি’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৬৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১০০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার ১১৯। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৪৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৫ দশমিক ৮২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।