ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের খরার প্রভাব পড়ছে হ্যালোইন উৎসবে। আবহাওয়ার চরম প্রতিকূলতায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ছোট আকারের কুমড়া উৎপন্ন হয়েছে। ফলে আসন্ন হ্যালোইনে ঐতিহ্যবাহী বড় সাইজের কুমড়ার তীব্র সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে উৎসবের সাজসজ্জায় বড় কুমড়ার বিকল্প হিসেবে ছোট কুমড়া ও অন্যান্য শাকসবজি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ দিকে হ্যালোইন উৎসবকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাড়ির সামনের অংশে কুমড়া সাজিয়ে রাখা হয়। কুমড়া কেটে তৈরি করা হয় ভুতুড়ে চেহারার নকশা। এরপর ভেতরে জ্বালানো হয় ছোট মোমবাতি। তবে এবার কুমড়ার আকার ছোট হওয়ায় এ ধরনের সাজসজ্জায় পরিবর্তন আসতে পারে। কেউ কেউ কুমড়া কাটার পরিবর্তে অন্যান্য সবজির ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন।
ইংল্যান্ডে চলতি বছরের বেশির ভাগ সময়ই বিরাজ করেছে খরা পরিস্থিতি। এতে ব্যাহত হয়েছে কৃষিপণ্যের উৎপাদন। সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কৃষকদের বিভিন্ন ফসল ফলাতে বেগ পেতে হয়েছে। একাধিক তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে শস্য উৎপাদন নেমে আসতে পারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
কুমড়ার প্রায় ৯০ শতাংশই পানি। স্বাভাবিক আকারে বেড়ে উঠতে এ সবজির প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘ খরা ও অতিরিক্ত গরমের প্রভাব পড়েছে কুমড়ার ফলনে।
জৈব সবজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রিভারফোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা গাই সিং-ওয়াটসন বলেন, ‘অস্বাভাবিক গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মের পর হ্যালোইনের কুমড়া স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট হওয়াটা বিস্ময়কর নয়। কুমড়ার বেশির ভাগ অংশই পানি দিয়ে তৈরি। তবে শুরুতেই বড় আকারের কুমড়া খোদাই করার প্রবণতা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।’
এদিকে বড় আকারের কুমড়া উৎপাদন করে হ্যালোইনের পর তা ফেলে দেয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিং-ওয়াটসন। তার মতে, কৃষিপণ্য উৎপাদনের প্রতিটি ধাপেই পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ে। কারণ কোনো ফসল ফলাতে কৃষকদের প্রচুর সময়, বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানি খরচ করতে হয়। এত পরিশ্রমের পর সে ফসল যদি কেউ না খায় বা ব্যবহারের আগেই নষ্ট হওয়ায় ফেলে দিতে হয়, তবে তা পুরো প্রক্রিয়ার অপচয় ঘটায়। এ কারণে তিনি এখন বিভিন্ন আকার ও রঙের ছোট কুমড়া উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।