২০৩০ সালের শুরুর দিক নাগাদ ইউরোপের বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি বাড়াতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে লিবিয়া। এজন্য আগামী পাঁচ বছরে নিজেদের গ্যাস উত্তোলন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। কাতার সফরের সময় আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এলএনজি-২০২৬ সম্মেলনে এ তথ্য জানান লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল কর্পোরেশনের (এনওসি) চেয়ারম্যান মাসুদ সুলেমান। খবর রয়টার্স।
মাসুদ সুলেমান জানান, লিবিয়া প্রতিদিন গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে দেশটিতে শেল গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে গ্রিনস্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে লিবিয়া থেকে ইউরোপে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস রফতানি হচ্ছে।
২০১১ সালে দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। জ্বালানি তেলের রাজস্ব নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রায়ই বিবাদ বাধে। এতে দেশটির জ্বালানি তেলক্ষেত্রগুলো থেকে অনেক সময়ই উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এ অস্থিতিশীলতার কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগে দ্বিধাবোধ করে আসছিলেন। তবে লিবিয়ায় এখন প্রায় ৮০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিশাল মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রচলিত ও অপ্রচলিত (শেল) উভয় ধরনের সম্পদই অন্তর্ভুক্ত।
বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিডিং বা নিলামের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে লিবিয়া। মাসুদ সুলেমান জানান, এ নিলামে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার প্রায় ৩৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর তালিকায় শেভরন, এনি ও কনোকোফিলিপসের মতো নামী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া রেপসলের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামও এ নিলামে অংশ নিয়েছে।
এনওসি চেয়ারম্যান আরো জানান, চলতি বছরেই তারা আরেকটি বিডিংয়ের ডাক দেবেন। এ ধাপে মূলত প্রান্তিক জ্বালানি তেলক্ষেত্র ও অপ্রচলিত খনিজ সম্পদের জন্য নিলাম হবে। সম্প্রতি জ্বালানি খাতের উন্নয়নে টোটালএনার্জিস এবং কনোকোফিলিপসের সঙ্গে ২৫ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সই করেছে লিবিয়া।