বিশেষ করে মার্কিন পর্যটকদের মধ্যে সম্প্রতি এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। এদিকে নতুন চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের বড় বড় উড়োজাহাজ সংস্থা ও হোটেলগুলো। খবর সিএনবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত বসন্তের শেষভাগ থেকে গ্রীষ্মের শেষ সময় পর্যন্ত ইউরোপে ভ্রমণের মূল মৌসুম বা পিক সিজন ধরা হয়। কিন্তু এখন সে প্রথাগত নিয়ম ভেঙে যাচ্ছে। উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো এখন শরতের শীতল সময়ে ও শীতের অফপিক বা কম চাহিদার সময়েও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। আগে যেসব রুটে নির্দিষ্ট কয়েক মাস উড়োজাহাজ চলত, এখন সেখানে বছরের প্রায় বেশির ভাগ সময়ই ফ্লাইট চালু রাখা হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নিউইয়র্ক থেকে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এবার শুরু হয়েছে মার্চে। নিউ জার্সি থেকে ইতালির সিসিলির পালেরমো রুটে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের বিরতিহীন ফ্লাইট চলবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। অন্যদিকে ডেল্টা এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস থেকে রোমের ফ্লাইট চালু রাখবে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এসব ফ্লাইট অনেক বেশি সময় ধরে চালানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) তথ্যানুযায়ী, উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে চলতি বছর খাতটির মুনাফা থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজ শিল্প টিকিয়ে রাখতে ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ধনী গ্রাহকদের আকর্ষণ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। ফলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো পর্যটকদের নতুন এ ভ্রমণ প্রবণতাকে কাজে লাগাতে চাইছে।
খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগে ভ্রমণের মৌসুমগুলো খুব সুনির্দিষ্ট ছিল। চাহিদার শীর্ষ ও নিম্নমুখী সময়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকত। কিন্তু এখন সে চেনা ছক বদলে যাচ্ছে।
তারা আরো বলেন, ইউরোপের দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোয় আরামদায়ক প্রিমিয়াম সিট বেশি থাকে। এসব রুটে বিজনেস ক্লাসের রাউন্ড-ট্রিপ (যাওয়া-আসা) ভাড়া ক্ষেত্রভেদে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ রুটের ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। খরচ বাড়ার কারণে সামগ্রিকভাবে উড়োজাহাজের ভাড়াও গত বছরের চেয়ে বেড়েছে। তবে জুলাইয়ের মূল গ্রীষ্মকালীন সময় পার হওয়ার পর টিকিটের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
উইন্টার বা শীতকালীন পর্যটনের ক্ষেত্রে ইতালির সিসিলি দ্বীপ এখন বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সিসিলিতে সাধারণত গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম থাকে ও শীতে তাপমাত্রা বেশ কমে যায়, সঙ্গে বৃষ্টিও হয়। শীতকালে সেখানে হোটেলের ভাড়া কম থাকে ও দর্শনীয় স্থানগুলোয় ভিড় থাকে না। এ সুযোগে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো শীতের মধ্যেও সেখানে সপ্তাহে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ডেল্টা এয়ারলাইনসও সিসিলির ক্যাটানিয়া রুটে ফ্লাইটের সময়সীমা আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
আমেরিকান এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানান, অক্টোবর এখন তাদের জন্য ব্যবসার অন্যতম শীর্ষ মাস হয়ে উঠেছে। তবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এখনো কিছু মন্দা সময় হিসেবেই রয়ে গেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে পর্যটকরা ভ্রমণের পরিকল্পনা ও গন্তব্য পরিবর্তন করছেন। যুদ্ধের কারণে অনিরাপদ হয়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এড়িয়ে তারা এখন বেছে নিচ্ছেন ইউরোপীয় দেশ স্পেনকে। ফলে স্পেনে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।