পুঁজিবাজার, ট্রেডিং প্লাটফর্ম ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা এবং প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের (এইচসিপিএসসি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৬৫ শিক্ষার্থী চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (সিএসই) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কার্যালয়ে শিক্ষা সফর করেছে। গতকাল এ শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী এবং বিনিয়োগ শিক্ষার অংশ হিসেবে সিএসই নিয়মিত এ ধরনের শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে। অনুষ্ঠানে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান, আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ বিন হোসাইন ও মো. আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
কার্যক্রমটি পরিচালনা করেন সিএসইর হেড অব ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস এম সাদেক আহমেদ। তিনি শিক্ষার্থীদের পুঁজিবাজারের কাঠামো, কার্যক্রম ও প্রায়োগিক পরিচালনা সম্পর্কে ধারণা দেন। সিএসইর কারিগরি কাঠামো ও ওয়েবসাইট নিয়ে যৌথ উপস্থাপনা করেন আইটি বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ বিন হোসাইন ও মো. আরিফুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনশক্তির উপযুক্ত বিকাশ ও মেধার সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তরুণদের বহুমাত্রিক দক্ষতায় নিজেদের উন্নীত করতে হবে। ছাত্রজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরির উপযুক্ত সময়।’
পুঁজিবাজারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার আর্থিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বাজার যত শক্ত ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো তত বেশি অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। কার্যকর পুঁজিবাজারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।’
সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী কিংবা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন। তাই স্কুল ও কলেজ জীবন থেকেই ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের জন্য বিভিন্ন খাত সম্পর্কে ধারণা নেয়া প্রয়োজন। জ্ঞান যত বাড়বে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ তত সহজ ও সঠিক হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিবর্তন ও দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পছন্দের খাতগুলো সম্পর্কে জানা এবং সম্ভব হলে সেসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। শুধু স্টক এক্সচেঞ্জ নয়, সামনে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মতো নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। তরুণ, মেধাবী ও দৃঢ়প্রত্যয়ী জনশক্তিই এসব সম্ভাবনাকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।’