ডলারের দর ধরে রাখতে বাজার থেকে আরো ৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২১ টাকা ৫০ পয়সা। নিলাম কমিটির সিদ্ধান্তে দেশের ২২টি ব্যাংক থেকে এ ডলার কেনা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার বাজার থেকে ১৭১ মিলিয়ন বা ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনে নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহেই বাজার থেকে ৫০ কোটি ২০ লাখ ডলার কেনা হলো। বাজার থেকে কিনে নেয়া এসব ডলার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হচ্ছে।
গত সাড়ে তিন বছর ধরে ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন হয়েছে। ব্যাংক খাতে প্রতি ডলারের আনুষ্ঠানিক দর ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু চলতি জুলাইয়ে এসে ডলারের দর না বেড়ে উল্টো কমতে শুরু করেছে। গত ২ জুলাই ব্যাংক খাতে প্রতি ডলারের বিক্রয় মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এরপর থেকেই ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হচ্ছিল। তবে গত চারদিনের ব্যবধানে ডলারের দর ১১৯ টাকায় নেমে যায়। এ পরিস্থিতিতে ডলারের আরো দর পতন ঠেকাতে আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বাজার থেকে ডলার কেনা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সদ্য শেষ হওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি মাসেও রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় ডলারের পতন অব্যাহত থাকলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স কমে গেলে হুন্ডির বাজার আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত ডলারের দর স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর ঘোষিত দরের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিন ডলারের একটি মধ্যবর্তী দর (মিডরেট) নির্ধারণ করে। মধ্যবর্তী দর থেকে ২ শতাংশ নিচে নেমে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কিছু নির্দেশনাও রয়েছে। সামগ্রিক দিক পর্যালোচনার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার ৩৩১ মিলিয়ন (৩১ কোটি ১০ লাখ) ডলার কিনেছে।’