মাত্র মাত্র দুই মাসে ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ

দেশটিতে মোট জাতীয় ঋণের আকার ৩৭ ট্রিলিয়ন (৩৭ লাখ কোটি) ডলারে পৌঁছয় চলতি বছরের আগস্টে। সে অনুযায়ী, দেশটির ঋণদায় ১ লাখ কোটি ডলার বাড়তে সময় নিয়েছে মাত্র দুই মাস। কভিড-১৯ মহামারির সময় বাদ দিলে দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে দ্রুত ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বৃদ্ধির ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনে স্থবির ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম। এর মধ্যেও দেশটির ব্যালেন্স শিটে দায়ের আকার বেড়েছে রেকর্ড গতিতে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বুধবার প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জাতীয় ঋণ এরই মধ্যে ৩৮ ট্রিলিয়ন (৩৮ লাখ কোটি) ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। খবর এপি

দেশটিতে মোট জাতীয় ঋণের আকার ৩৭ ট্রিলিয়ন (৩৭ লাখ কোটি) ডলারে পৌঁছয় চলতি বছরের আগস্টে। সে অনুযায়ী, দেশটির ঋণদায় ১ লাখ কোটি ডলার বাড়তে সময় নিয়েছে মাত্র দুই মাস। কভিড-১৯ মহামারির সময় বাদ দিলে দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে দ্রুত ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বৃদ্ধির ঘটনা।

ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেল অর্থনীতিবিদ কেন্ট স্মেটার্স সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনে ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এপিকে তিনি বলেন, ‘ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত তা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ক্রয়ক্ষমতা হারাতে থাকে সাধারণ নাগরিকরা।

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই চান যেন তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিরা ভবিষ্যতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে। একটি বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু এ মূল্যস্ফীতি তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনা আরো কঠিন হয়ে পড়ে।’

মার্কিন গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের (জিএও) এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারের ঋণ বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের জীবনে নানা ধরনের প্রভাব পড়ে। গৃহঋণ ও গাড়ি ঋণের ব্যয় বেড়ে যায়। ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমে যায়। বেতন কমে যায়। একই সঙ্গে দাম বেড়ে যায় পণ্য ও সেবার।

যদিও হোয়াইট হাউজের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হচ্ছে। দেশটির বিশাল ঘাটতি কমানোয় এ নীতি বড় ভূমিকা রাখবে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে দেশটিতে মোট বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬৮ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বনিম্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার প্রথম আট মাসেই সরকারের ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার কমাতে সক্ষম হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্যয় কমানো এবং রাজস্ব বাড়ানোর ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।’

আরও