ইআইএর প্রতিবেদন

চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বাভাবিক হবে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল উত্তোলন

চলতি বছরের শেষের দিকে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বাণিজ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বড় ধরনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বিশ্ববাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

একদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আগের তুলনায় কিছুটা কমে আসছে। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি এখন বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে সাময়িকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইআইএ জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়বে এবং দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইআইএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ বা বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। গত জুনেও এ জ্বালানি তেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার। সে তুলনায় আগামী মাসগুলোয় দাম অনেকটাই কমে আসবে। এর আগে গত মাসে দেয়া এক পূর্বাভাসে সংস্থাটি বলেছিল, তৃতীয় প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হয় তবে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হবে।

এর আগে ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ কয়েক মাস অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেশ বেড়ে গিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপ থেকে শুরু করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো তাদের জ্বালানি উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়, যার বড় প্রভাব পড়ে পুরো বিশ্বের কমোডিটি বা পণ্যবাজারে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় পরিস্থিতি উন্নত হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌযান চলাচল বেড়েছিল। যদিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত এখন বন্ধ, তবুও এ প্রাথমিক ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে ইআইএ তাদের বার্ষিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল ও মোটরগাড়ির জ্বালানির দামের পূর্বাভাসও কমিয়ে এনেছে।

মার্কিন সংস্থাটির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া জ্বালানি তেলের সিংহভাগ উত্তোলন ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) মধ্যে আবার পুরোপুরি চালু হবে। এ ধারাবাহিক পুনরুদ্ধারের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনেক বাড়বে এবং জরুরি মজুদ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল তোলার প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে। ফলে আগামী মাসগুলোয় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে আসার এ প্রভাব সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের ওপরও পড়বে এবং খুচরা বাজারে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ইআইএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের দাম দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) ৪ ডলার ২১ সেন্ট থেকে কমে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতি গ্যালন গড়ে ৩ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে আসতে পারে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সেখানে জ্বালানির দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও