গহনার বৈশ্বিক বাজারে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে প্যান্ডোরা। এ লক্ষ্যে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে নতুন কারখানা চালু করেছে ডেনমার্কের গহনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সূক্ষ্ম গহনা তৈরির কারখানা বলে দাবি প্যান্ডোরার। ১৫ কোটি ডলারে তৈরি কারখানাটি পুরোপুরি নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে পরিচালিত হবে। খবর ইউরো নিউজ।
প্যান্ডোরা জানায়, কারখানাটিতে পূর্ণ উৎপাদন শুরু হলে প্রায় সাত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বছরে এখানে সর্বোচ্চ ছয় কোটি গহনা তৈরি সম্ভব। ফলে প্যান্ডোরার মোট উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে ৫০ শতাংশ। এটি বিশ্বজুড়ে কোম্পানিটির চতুর্থ কারখানা ও থাইল্যান্ডের বাইরে প্রথম উৎপাদন কেন্দ্র।
প্যান্ডোরার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বের্তা দে পাবলোস-বারবিয়েরের মতে, নতুন কারখানার ফলে বিভিন্ন উপকরণ ও উৎপাদন কৌশল ব্যবহার করে কোম্পানির সব ধরনের গহনা তৈরির সক্ষমতা বাড়বে।
ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ১৯৮২ সালে ছোট একটি গহনার দোকান হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্যান্ডোরা। ১৯৮৯ সালে থাইল্যান্ডে উৎপাদন শুরু করার পর ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০০০ সালে চালু হওয়া চার্ম ব্রেসলেট জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে ২০১০ সালে কোপেনহেগেনের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি।
২০২৫ সালে প্যান্ডোরা ১১ কোটি ২০ লাখ পিস গহনা বিক্রি করেছে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে গড়ে তিনটির বেশি গহনা বিক্রি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গহনা ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচয় দেয়।
এদিকে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব কমানোও প্যান্ডোরার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৪ সালে গহনা তৈরিতে শতভাগ পুনর্ব্যবহৃত স্বর্ণ ও রুপা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন কারখানায় পুরোপুরি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনাও এ উদ্যোগের অংশ।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক প্রধান গবেষক সেলিম এইচ আলীর মতে, স্বর্ণ বারবার পুনর্ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ধাতুটি সহজে জারিত হয় না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এর গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গহনার বাজারে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা প্যান্ডোরার সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে উৎসাহ দিচ্ছে। ম্যাককিনজি ও দ্য বিজনেস অব ফ্যাশনের দ্য স্টেট অব ফ্যাশন ২০২৬ প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৮ সালের মধ্যে গহনার বিক্রি বছরে গড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে। পোশাকের বাজারের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধির হার প্রায় চার গুণ।
তবে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ থাকলেও প্যান্ডোরার সামনে কিছু ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক কোম্পানির মুনাফায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র প্যান্ডোরার সবচেয়ে বড় বাজার। সেখানে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গহনার চাহিদাও চাপে রয়েছে।