বৈশ্বিক শেয়ারবাজার

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অবস্থান হারাল ভারত

বাজার মূলধনের (মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন) দিক থেকে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের তালিকায় সপ্তম স্থানে নেমেছে ভারত।

গতকাল দেশটিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মূলত বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির ধুম, দুর্বল আয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে কম বিনিয়োগের কারণে ভারতের এ বিপর্যয় বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

অন্যদিকে এআই চিপের বাজারে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ-প্রধান বাজার ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছে। চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে। এআই চিপ নির্মাতাদের ওপর ভর করে দেশটির কসপি, কসদাক ও কোনেক্স সূচকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট মূল্য এখন ৪ দশমিক ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে ভারতের শেয়ারবাজার বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বৈশ্বিক তালিকায় দুই ধাপ নিচে নেমে গেছে দেশটি। এদিকে গত মাসেই ভারত তাইওয়ানের কাছে নিজের অবস্থান হারিয়েছিল।

বার্নস্টেইনের বিশ্লেষক ভেনুগোপাল গ্যারে ও নিখিল আরিলা জানান, প্রায় ১৮ মাস আগেও ভারতের শেয়ারবাজারের মূলধন দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে সাড়ে তিন গুণ ও তাইওয়ানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের পাঁচ মাসের মাথায় ভারতের সে বিশাল ব্যবধানের লিড পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেছে।

চলতি বছর ভারতের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক নিফটি ৫০ ১০ দশমিক ১ শতাংশ এবং বিএসই সেনসেক্স ১২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ভারতের বাজারের অন্যতম প্রধান শক্তি আইটি খাতের সূচক কমেছে ১৯ শতাংশ। খাতটির দুর্বল আয়ের পূর্বাভাস ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপই এর মূল কারণ।

২০২৬ সালের এ পর্যন্ত বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ারবাজার থেকে রেকর্ড ২ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার তুলে নিয়েছেন। এর আগে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৯১ কোটি ডলার তুলে নেয়ার রেকর্ড ছিল ২০২৫ সালে। ফলে এমএসসিআই গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ইনডেক্সে ভারতের হিস্যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ থেকে কমে এখন ১২ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ফরাসি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কার্মিনিয়াকের ফান্ড ম্যানেজার নাওমি ওয়েস্টেল একে একটি ‘স্মরণীয় পতন’"হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রযুক্তি খাতের বাজারের দিকে তাকালে এ পার্থক্য আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর চলতি বছর আকাশচুম্বী হয়েছে। ফলে ১০৭ শতাংশ বেড়েছে দেশটির প্রধান সূচক কসপি। অন্যদিকে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদার কারণে তাইওয়ানের প্রধান সূচক বেড়েছে ৫৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তি থেকে যথেষ্ট লাভবান হতে পারছে না ভারত।

বাজারের তথ্য বলছে, বর্তমান বিশ্বে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা এখন তুঙ্গে, যার কেন্দ্রে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে চিপ তৈরির মূল নায়ক তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত নয়।

তবে ভারতে লাইটহাউজ ক্যান্টনের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা অভয় লাইজাওয়ালা বলেন, ‘এআই ইকোসিস্টেম বা ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ, কুলিং সিস্টেম ও ভৌত অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়। ভারত এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এআই যুগে নিজেদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার ভালো সুযোগ পেতে পারে।’

আরও