আমদানি ও সরবরাহ সংকট

দেশের বাজারে বেড়েছে শুকনা মরিচের দাম

সাতক্ষীরার ভোমরা কাস্টমস হাউসের তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) এই বন্দর দিয়ে ৩৯ হাজার ৮৫৫ টন শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৮৬৬ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ৪ হাজার ১১ টন।

সরবরাহ ঘাটতি ও আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এক মাসের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি ও সাতক্ষীরার খুচরা বাজারে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সাতক্ষীরার ভোমরা কাস্টমস হাউসের তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) এ স্থলবন্দর দিয়ে ৩৯ হাজার ৮৫৫ টন শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৮৬৬ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ৪ হাজার ১১ টন। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারতের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি এবং ক্রয়মূল্য বেড়ে যাওয়ায় তারা এলসি কমিয়ে দিয়েছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারে এক মাস আগে যে মরিচ ৩৪০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, ভারতীয় মোকামে সরবরাহ না বাড়লে আমদানি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন।

এদিকে উত্তরের সীমান্ত অঞ্চল দিনাজপুরের হিলিতেও চিত্রটি আরো উদ্বেগজনক। হিলি বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড়ের ‘বিন্দু’ জাতের শুকনা মরিচ ২৬০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৮০-২০০ টাকার মধ্যে।

হিলি বাজারের খুচরা বিক্রেতা আবুল হাসনাত জানান, পঞ্চগড় ও বগুড়া থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। আগে যেখানে ১৭০-১৯০ টাকায় মরিচ কেনা যেত, এখন তা ২৫০-২৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় মোকামে সরবরাহ কমে গেছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়ায় দাম বেশি শুকনা মরিচের।

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই আগের তুলনায় অর্ধেক পরিমাণে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ জানান, আমদানি ও সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমে আসবে। অন্যদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে দাম বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জনস্বার্থে এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

আরও