বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেটলাইফের গবেষণা

৭২% কর্মীর মতে আর্থিক দুশ্চিন্তায় কমে উৎপাদনশীলতা

গবেষণায় বিভিন্ন খাতের ৭০৯ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন কর্মী ও ১২৬ জন নিয়োগদাতা।

আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে বলে জানিয়েছেন ৭২ শতাংশ কর্মী। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৫৬ শতাংশ। একই সঙ্গে আর্থিক নিরাপত্তা ও অবসর জীবনের প্রস্তুতিতে নিয়োগদাতাদের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন কর্মীরা। মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডির (ইবিটিএস)’ দ্বিতীয় সংস্করণে এ তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীতে গতকাল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় বিভিন্ন খাতের ৭০৯ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন কর্মী ও ১২৬ জন নিয়োগদাতা। তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, উৎপাদন, খুচরা বিক্রয়, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিয়োগদাতাদেরও রয়েছে বলে মনে করেন ৮১ শতাংশ কর্মী। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৬৯ শতাংশ। অবসর জীবনের সঞ্চয়ে নিয়োগদাতাদের সহায়তা প্রত্যাশা করেন ৮৬ শতাংশ কর্মী, আগের বছর যা ছিল ৬৭ শতাংশ। এছাড়া কর্মীদের প্রধান আর্থিক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয়।

গবেষণায় কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের চিত্রও উঠে এসেছে। এতে অংশ নেয়া ৫৫ শতাংশ কর্মী প্রতিদিনের কাজে এআই ব্যবহার করেন। ব্যবহারকারীদের ৯১ শতাংশের মতে, এ প্রযুক্তি তাদের কাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে মাত্র ৫৮ শতাংশ নিয়োগদাতা কর্মীদের এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখেছেন। তাদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ মনে করেন কর্মীরা সহজেই এ প্রযুক্তি গ্রহণ করছেন।

এদিকে আর্থিক উদ্বেগ বাড়লেও চাকরি নিয়ে কর্মীদের সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৭৮ শতাংশ কর্মী চাকরি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন, চলতি বছর এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ শতাংশে। তবে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকট বা ব্যয়ের সময় নিয়োগদাতার সহায়তা প্রত্যাশা করেন ৭২ শতাংশ কর্মী।

কর্মীদের কাছে বীমা ও সুস্থতা-সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধার গুরুত্বও বাড়ছে। গবেষণায় ৭৯ শতাংশ কর্মী বলেছেন, এসব সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বাড়বে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ। জীবন বীমা, আয়ের সুরক্ষায় বীমা, গুরুতর অসুস্থতার বীমা এবং অক্ষমতাজনিত সুরক্ষার ক্ষেত্রে কর্মীদের প্রত্যাশা ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া সুবিধার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

নিজেদের প্রয়োজন ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আগ্রহও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৬৫ শতাংশ কর্মী ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধা পেতে আগ্রহী ছিলেন, যা এ বছর বেড়ে হয়েছে ৮৬ শতাংশ। অন্যদিকে গত বছর ৭৮ শতাংশ নিয়োগদাতা কর্মীদের সুযোগ-সুবিধাকে ইতিবাচক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশে।

অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, অবসর জীবনের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে রয়েছেন ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী অনেক কর্মী। এর মধ্যে যাদের অবসর জীবনের কোনো পরিকল্পনা নেই, তাদের হার ২০২৫ সালের ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার ৮১ শতাংশ হয়েছে। অবসর জীবনের জন্য কীভাবে সঞ্চয় করতে হবে এবং সঞ্চিত অর্থ থেকে কীভাবে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে নিয়োগদাতাদের সহায়তা চান কর্মীরা।

মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, ‘ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি কর্মীদের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।’ প্রযুক্তি, আর্থিক নিরাপত্তা, সুস্থতা ও কর্মী-উপযোগী সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে অধিক সম্পৃক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কর্মী বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

আরও