আইএমএফের ২২০ কোটি ডলারের সহায়তা পেল সেনেগাল

সেনেগালের আগের সরকারের নেয়া বিলিয়ন ডলারের অপ্রকাশিত ঋণের তথ্য সামনে আসে গত বছর। এরপর আইএমএফ দেশটিতে সাময়িকভাবে ঋণ দেয়া বন্ধ রাখে। তবে সম্প্রতি সেনেগাল সরকার ঋণের তথ্য সংশোধন ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়ায় আইএমএফ ফের ঋণ দেয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগাল। সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশটির জন্য ২২০ কোটি ডলারের একটি উদ্ধার প্যাকেজ বা ঋণসহায়তায় সম্মত হয়েছে। খবর এফটি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বলছে, সেনেগাল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ। বিশাল দেনা পুনর্গঠন (পরিশোধের মেয়াদ-শর্ত পরিবর্তন) ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি সেনেগাল সরকার নিজস্ব উদ্যোগে একটি ‘ঋণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ চালু করেছে।

সেনেগালের আগের সরকারের নেয়া বিলিয়ন ডলারের অপ্রকাশিত ঋণের তথ্য সামনে আসে গত বছর। এরপর আইএমএফ দেশটিতে সাময়িকভাবে ঋণ দেয়া বন্ধ রাখে। তবে সম্প্রতি সেনেগাল সরকার ঋণের তথ্য সংশোধন ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়ায় আইএমএফ ফের ঋণ দেয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডি’স জানায়, সরকারি ব্যয় কমানো ও কর বাড়ানোর পরও সেনেগালের ঋণ বর্তমানে দেশটির জিডিপির প্রায় সমান। পাশাপাশি সরকারের মোট রাজস্ব বা আয়ের প্রায় চার ভাগের এক ভাগই চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নেতৃত্বের কোন্দলের কারণেও আইএমএফের চুক্তিটি আগে বিলম্বিত হয়। সেনেগালের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী উসমান সোনকোর মধ্যে নীতিগত বিরোধের কারণে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী সোনকো ঋণ পুনর্গঠনকে দেশের জন্য ‘লজ্জাজনক’ বললেও তিনি সম্প্রতি পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে রাজস্ব সংস্কার প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে তার নতুন করে মতবিরোধ হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সেনেগাল এখন জি২০-ভুক্ত দেশগুলোর প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। তবে আঞ্চলিক মুদ্রা সিএফএ ফ্রাঙ্কে নেয়া স্থানীয় ঋণ এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে। কারণ আঞ্চলিক আর্থিক বাজার দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও সরকারি অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেনেগাল স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়াতে বাধ্য হয়।

আরও