পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাজুস দেশের প্রায় ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়

পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ লক্ষ্য অর্জনে নীতিমালা সংস্কার, আমদানি সহজীকরণ এবং আধুনিক কারখানা ও ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল ২০২৬’-এ অনুষ্ঠানে গতকাল লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাজুসের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাজুস দেশের প্রায় ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

বাজুস জানায়, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বমানের জুয়েলারি রফতানি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শিল্পটির অন্যতম বাধা হিসেবে নীতিমালার অস্পষ্টতাকে চিহ্নিত করে বলা হয়, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে স্থানীয় বাজারে ভরিপ্রতি অন্তত ৩০ হাজার টাকা কম দামে অলংকার বিক্রি করা সম্ভব।

‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে আশা করছে বাজুস। একই সঙ্গে বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার ৫০০-৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। পাশাপাশি দেশের মোট স্বর্ণের মজুদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে বাজুস। এসব কারখানায় ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ ও এক লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জিডিপিতে অতিরিক্ত দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রফতানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ও আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কহার কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবিত ‘স্বর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন করা গেলে ৫-১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রফতানি সম্ভব হবে বলে জানায় বাজুস।

বাজুসের বক্তব্যে বলা হয়, যুগোপযোগী নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।

বক্তব্যের শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সুধীজন এবং কার্নিভাল আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আজাদ আহমেদসহ বিভিন্ন উপকমিটির সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

আরও