সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে শস্যের উৎপাদন আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা কমতে পারে। তবে উৎপাদন সামান্য কমলেও তা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
আইজিসির গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘গ্রেইন মার্কেট রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী মোট শস্য উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২৪৬ কোটি টনে, যা গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় এক কোটি টন কম। মূলত যবের ফলন নিয়ে নতুন করে সংশোধিত হিসাব তৈরির কারণে মোট উৎপাদনের এ লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হয়েছে।
আইজিসি বলেছে, যবের উৎপাদনে বড় ধরনের সংশোধন এলেও অন্যান্য শস্যের ফলনে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, গম ও ভুট্টার ফলন নিয়ে আগের দেয়া তথ্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এ সময় গমের উৎপাদন ৮৪ কোটি ২০ লাখ টন এবং ভুট্টার উৎপাদন ১২৯ কোটি ৭০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এছাড়া ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে চালের উৎপাদন ৫৪ কোটি ৩০ লাখ টনে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে শস্যের সমাপনী মজুদ নিয়ে ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি। সংস্থাটি বলছে, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে সমাপনী মজুদ সামান্য কমে ৬৩ কোটি ১০ লাখ টনে নামতে পারে। তবে মজুদ কিছুটা কমলেও এ পরিমাণ হবে ২০১৭-১৮ বিপণন বর্ষের পর সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষের একটি প্রাথমিক পূর্বাভাসও দিয়েছে আইজিসি। এতে বলা হয়েছে, আগামী বছর বিশ্বজুড়ে গমের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হতে পারে। এ সময় গমের ফলন কমলেও এর বেচাকেনা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভুট্টার উৎপাদনও আগামী বছর কমে যেতে পারে। আবাদযোগ্য জমি ও ফলনের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে শস্যটির উৎপাদন কমার আশঙ্কা করছে আইজিসি।
অন্যদিকে সয়াবিন উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কাউন্সিল। ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে তেলবীজটির উৎপাদন এক কোটি টন কমে ৪২ কোটি ৮০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। তবে এশিয়ায় সয়াবিনের চাহিদা বাড়ার কারণে এর আমদানি-রফতানি আগের তুলনায় গতিশীল হতে পারে।
বিশ্ববাজারে শস্যের দামের গতিপ্রকৃতি বিষয়ে আইজিসি জানিয়েছে, সংস্থাটির শস্য ও তেলবীজ মূল্য সূচক (জিওআই) আগের মাসের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে এ সূচক ২২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। মূলত সয়াবিনের রফতানি মূল্য ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং যবের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় সূচকটি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।