নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ট্রেসেবিলিটি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাত এবং ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারির আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। প্রাথমিকভাবে ডিম, পোলট্রিসহ কয়েকটি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা এ কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘শুধু রমজানকেন্দ্রিক নয়, সারা বছর নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারি বাড়ানো হবে। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো বা অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন সরকারের বাজার তদারকি কার্যক্রমে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে পণ্যের মজুদ, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেয়া হচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাজারে ভোক্তার আস্থা ধরে রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পণ্যের দামে সামান্য পরিবর্তন হলেও তার প্রভাব ভোক্তার ওপর পড়ে। ফলে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি, মজুদ ও মূল্য—এসব বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।’
ট্যারিফ কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দেশে বছরে মসুর ডালের চাহিদা প্রায় ৭ লাখ টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল প্রায় ৪২ হাজার টন। চলতি বছরে একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার টন। ভোজ্য তেলবীজ আমদানিও গত বছরের ২ লাখ ৭৩ হাজার টন থেকে বেড়ে চলতি বছরে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের বাজার পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। আমদানির ক্ষেত্রে খোলা ঋণপত্র, পণ্য আসার প্রক্রিয়া ও সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।’
বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম এবং ডাল, তেল, খেজুর, ডিম, চিনি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।