চীনে কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম এখন অনেক বেশি। এতে বেড়েছে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও। ফলে গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুতের চাহিদা কমতে শুরু করলেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুতের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ১৪-২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবহাওয়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি খরচের পার্থক্যের কারণে প্রদেশভেদে বিদ্যুতের দামে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
চীনের কিনহুয়াংদাও বন্দরে ১৮ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৫০০ কিলোক্যালরি মানের তাপবিদ্যুৎ কয়লার দাম ছিল প্রতি টন ৭৫৪ ইউয়ান। আগের সপ্তাহেও একই দামে এ কয়লা বিক্রি হয়েছে। ৫ হাজার কিলোক্যালরি কয়লার দামও টনপ্রতি ৬৮৪ ইউয়ানে অপরিবর্তিত ছিল। তবে ৪ হাজার ৫০০ কিলোক্যালরি কয়লার দাম কমে ৬১৬ ইউয়ানে নেমেছে।
কয়লার দাম কমার বড় কোনো লক্ষণ না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি ব্যয় এখনো অনেকটা বেশি। এর সঙ্গে দেশটির প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী এলাকাগুলোয় নিরাপত্তা তদারকিতে কড়াকড়ি চলমান রয়েছে। ফলে অনেক খনিতে কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এতে স্বল্প সময়ে কয়লার সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগও খুব সীমিত।
অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের বন্দরে কয়লা পরিবহন কিছুটা বেড়েছে। আসন্ন জাতীয় ছুটির দিন ও রেললাইন সংস্কারকাজের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আগেভাগেই কয়লার মজুদ বাড়িয়েছে। উত্তরাঞ্চলে শীতকালীন মজুদের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর হাতে এখনো পর্যাপ্ত কয়লা রয়েছে। তাই বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে কয়লা কেনার আগ্রহও সীমিত।
এদিকে চীনের গুয়াংডংয়ে এলএনজির দামও বেড়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব গুয়াংডংয়ে এলএনজির গড় দাম বেড়ে প্রতি টনে ৬ হাজার ২০৫ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এ দাম ছিল ৬ হাজার ৫ ইউয়ান।
আমদানি করা এলএনজির দাম অবশ্য সপ্তাহের শেষ দিকে কিছুটা কমেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর এর দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২৯ ডলার ৭৪ সেন্টে ওঠে। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর তা কমে ২৭ ডলার ১৯ সেন্টে নামে। তবে কমার পরও দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো বেশি।
এলএনজির দাম বাড়ায় গুয়াংডংয়ে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এ সময়ে প্রদেশটির বিদ্যুতের রিয়েল-টাইম গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় ৫০৮ দশমিক ১২ ইউয়ানে পৌঁছেছে।
তবে সব প্রদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়েনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে ইনার মঙ্গোলিয়া ও শানশিতে বিদ্যুতের দাম কমেছে।
সব মিলিয়ে গ্রীষ্মের চাহিদা কমলেও চীনের বিদ্যুৎবাজারে কয়লা ও এলএনজির উচ্চ মূল্য এখনো বড় প্রভাব ফেলছে। আগামী দিনে কয়লার উৎপাদন ও সরবরাহ, এলএনজির দাম, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শীতকালীন কয়লা মজুদের ওপর দেশটির বিদ্যুৎবাজারের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে