ফেডের গবেষণা

‘রিমোট ওয়ার্ক’ সংস্কৃতির কারণে কমছে নতুন কর্মী নিয়োগ

তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ঘরে বসে কাজ বা ‘রিমোট ওয়ার্ক’ সংস্কৃতি।

বিভিন্ন সংস্থায় দূরবর্তী কাজের সুযোগ থাকায় নতুন ও কম অভিজ্ঞ কর্মীদের সঠিকভাবে পরামর্শ বা মেন্টরিং দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে তাদের নিয়োগ কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর আনাদোলু।

গবেষকরা জানান, আজকাল জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তির কারণে চাকরি কমছে বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু তরুণ কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের সাম্প্রতিক বেকারত্ব বাড়ার প্রায় ৬৪ শতাংশের পেছনে দায়ী রিমোট ওয়ার্ক। এআই নয়, বরং ঘরে বসে কাজের সংস্কৃতিই বেকারত্ব বাড়ার মূল কারণ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৯ সালের মধ্যে ২৯ বছরের কম বয়সী কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের গড় বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু ২০২২-২৫ সালের মধ্যে তা ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ঘরে বসে বা দূর থেকে কাজ করার সুযোগ যেসব পেশায় বেশি, মূলত সেখানেই তরুণদের বেকারত্বের হার বেড়েছে। এসব খাতে ২০১৭-১৯ সালের তুলনায় ২০২২-২৪ সালের মধ্যে তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মীরা অফিসে একে অন্যের পাশে বসে কাজ করলে নানা বিষয়ে জ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে দ্রুত মতামত ও দিকনির্দেশনা (ফিডব্যাক ও মেন্টরশিপ) পান। কিন্তু যখন তারা দূর থেকে বা ঘরে বসে কাজ করেন, তখন এ মেলবন্ধন ও শেখার প্রক্রিয়াটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুনদের কাজ শেখানোর চেয়ে অভিজ্ঞদের ওপর বেশি নির্ভর করতে শুরু করেছে।

ফরচুন ৫০০ তালিকার একটি বড় কোম্পানির নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এ ধারণার সত্যতা পেয়েছেন। কভিড-১৯ মহামারীর সময় ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলো বন্ধ হয়ে গেলে তারা অনভিজ্ঞ বা নতুন কর্মী নেয়া অনেক কমিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে আবার অফিস পুরোদমে চালু হলেই কেবল প্রতিষ্ঠানটি নতুন ও তরুণ কর্মী নিয়োগের দিকে ফিরে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিমোট ওয়ার্ক অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য সুবিধাজনক হলেও ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন ও পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য এখনো অফিসের মুখোমুখি পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই।

আরও