এশিয়ার চালের বাজার

সরকারি নীতি ও মৌসুমি বায়ুর উদ্বেগে ভারতে চালের দরবৃদ্ধি

ভারতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে বাড়ছে চালের রফতানি মূল্য।

সরকারি নীতি ও কম বৃষ্টির কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় এ দাম বেড়েছে। এশিয়ার অন্য দেশগুলোয় চালের ব্যবসায় কিছুটা মন্দা থাকলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রফতানিকারক দেশটিতে দাম বেড়েই চলেছে। এদিকে সাম্প্রতিক বন্যায় বাংলাদেশেও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম টনপ্রতি ৩৫২-৩৫৭ ডলারে উঠেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৪৮-৩৫২ ডলার। একই মানের আতপ চাল প্রতি টন ৩৫৩-৩৫৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপেন মার্কেট সেলস স্কিম বা ওএমএসএসের আওতায় চালের দর কমার আশা করেছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার হঠাৎ রিজার্ভ মূল্য বাড়িয়ে দেয়ায় খোলাবাজারে সরাসরি এর প্রভাব পড়েছে।

নীতিগত এ পরিবর্তনের পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ আরো জোরালো হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ১০ জুলাই পর্যন্ত ভারতের কৃষকরা ১ কোটি ১৫ লাখ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ধান রোপণ করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ আবাদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ হেক্টর। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ অনেকটা কমেছে। কম বৃষ্টিপাতের কারণে ধানের চারা রোপণ আরো পিছিয়ে যেতে পারে, যা বাজারে সরবরাহ কমার আশঙ্কা তৈরি করছে।

এদিকে বাংলাদেশে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের একটি বড় অংশে বন্যার কারণে কৃষি খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশের ১২টি জেলায় অন্তত ২৮ হাজার ৬১০ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ও আমন ধানের খেত এবং বীজতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির এ হিসাব প্রাথমিক। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর ফসলের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্রটি বোঝা যাবে।

ভারতের বিপরীতে এশিয়ার অন্য প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় চালের চাহিদা কম। তাই দাম কিছুটা কমেছে বা অপরিবর্তিত রয়েছে।

থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৪৪৫-৪৫০ ডলারে নেমেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৫০ ডলার। থাই ব্যবসায়ীরা জানান, ফিলিপাইন সাময়িকভাবে থাইল্যান্ড থেকে চাল আমদানি স্থগিত করায় বাজারে চাহিদা কমে গেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৪৪৫-৪৫০ ডলারে অপরিবর্তিত রয়েছে। আবাদ শেষের দিকে হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরবরাহের অপেক্ষায় আছেন, ফলে দেশটির বাজারে এখন বেচাকেনা বেশ ধীরগতির।

আরও