যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলো গত মাসে জানায়, আগামী ছয় মাসে ব্যবসায়িক পরিবেশ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের আস্থা প্রায় সাড়ে ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির ভোক্তা আস্থা সূচক ৬ দশমিক ৭ পয়েন্ট কমে ৮১ দশমিক ৯-এ নেমে এসেছে, যা ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, ক্রমবর্ধমান সুদহার ও সংকুচিত হতে থাকা শ্রমবাজার মিলে ত্রিমুখী সংকটকে এ অবনতির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য স্ট্রেটস টাইমস।

ভোক্তা আস্থা হলো সাধারণ ক্রেতাদের চোখে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতে নিজের আর্থিক নিরাপত্তার মাপকাঠি। সহজ কথায়, চাকরির বাজার, আয়-উপার্জন ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তিতে বা দুশ্চিন্তায় আছে, তার ওপর নির্ভর করে এ আস্থা সূচক ওঠানামা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলো গত মাসে জানায়, আগামী ছয় মাসে ব্যবসায়িক পরিবেশ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য কনফারেন্স বোর্ডের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত আরো একাধিক জনমত জরিপের ফলের সঙ্গে এটি হুবহু মিলে গেছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

চলমান মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দর বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে উসকে দিয়েছে মূল্যস্ফীতি। এর জের ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ তিন বছর পর গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো সুদহার বাড়ায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)।

সুদহার বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার চড়া খরচের প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। সুপারমার্কেটের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পেট্রল পাম্পের জ্বালানি থেকে শুরু করে আবাসন খাতের বন্ধকি ঋণের (মর্টগেজ) সুদহারসহ সবখানেই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা অনুভূত হচ্ছে। এমনকি ডিজেলের দাম এখন দেশটির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফলে নতুন কর্মী নিয়োগে চরম দ্বিধায় পড়ছেন মার্কিন নিয়োগকর্তারা।

দ্য সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ কাইল মুর পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গড়পড়তা বা সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এক জায়গায় থমকে দাঁড়িয়েছে। সরকারের অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল নীতিমালার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা সাধারণ পরিবার—কারো পক্ষেই ভবিষ্যতের সঠিক পরিকল্পনা করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।’"

আরও