হরমুজ দিয়ে রফতানি হয়েছে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল

সৌদি আরবও হরমুজ দিয়ে তেল রফতানি বাড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে গত সপ্তাহে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া সপ্তাহে এ পরিমাণ তেল প্রণালিটি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।

কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহে ১৯টি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার করেছে। এর মধ্যে ১৭টি ছিল ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার বা ভিএলসিসি। এসব জাহাজ প্রতিটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে জ্বালানি তেল বহন করা যায়। বেশির ভাগ জাহাজে সৌদি আরবের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল। এরপর ছিল ইরাকের তেলবাহী জাহাজ। আগের সপ্তাহে হরমুজ দিয়ে ৪ কোটি ৯২ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়েছিল।

গত বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওইদিন প্রণালিটি দিয়ে জুলাইয়ের শুরুর পর সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়েছে।’

সৌদি আরবও হরমুজ দিয়ে তেল রফতানি বাড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর লোহিত সাগরের বন্দর ইয়ানবু থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন বাড়ায়।

তবে হরমুজে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পণ্যবাহী মাত্র নয়টি জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে গেছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১৪। এর মধ্যে আটটি জাহাজ প্রণালি থেকে বের হয়েছে। জাহাজগুলো ট্র্যাকিং এড়াতে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে যাতায়াত করছে। ফলে প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেপলারের হিসাবে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১৮টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করত। এসব জাহাজের মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার, গ্যাসবাহী জাহাজ, বাল্ক ক্যারিয়ার ও কনটেইনার জাহাজ ছিল। বিশ্বে মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

আরও