টানা ছয় মাস ধরে দেশের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ছিল গরম মসলার পাইকারি বাজার। বাজারে আশঙ্কা ছিল দাম আরো বাড়তে পারে মসলাপণ্যটির। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে কমছে আমদানীকৃত ও দেশে উৎপাদিত উভয় ধরনের গরম মসলার দাম। এরই মধ্যে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। এখানকার দামের ওপর নিয়ন্ত্রিত হয় সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজার।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খাতুনগঞ্জে গত কয়েক সপ্তাহে বেশি কমেছে আমদানীকৃত মসলার দাম। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দামের ওপর নিম্নমুখী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে উৎপাদনকারী দেশগুলোয় মসলার বাজার শিথিল হওয়ায় আমদানি খরচ কমেছে ব্যবসায়ীদের। এতে দেশের বাজারেও পণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দুই সপ্তাহ আগে পাইকারি দরে কেজিপ্রতি জিরা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকায়। গতকাল পণ্যটির বিক্রয় মূল্য নেমেছে ১ হাজার ৪০ টাকায়। ফলে কেজিতে ৩০-৪০ টাকা দাম কমেছে মসলাপণ্যটির।
অন্যদিকে, কেজিপ্রতি এলাচের দাম ১০০-২০০ টাকা কমে লেনদেন হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকায়, প্রতি কেজি লবঙ্গ ১০০ টাকা কমে ১ হাজার ২৬০ টাকায়, গোলমরিচ ১০-১৫ টাকা কমে ৬০৫ টাকায়, জায়ফল ২০-৩০ টাকা কমে ৬৫০-৬৬০ টাকায়, জয়ত্রী ৭০-৮০ টাকা কমে ২ হাজার ৫৫০ টাকায়, মিষ্টি জিরা ৪০ টাকা কমে ২৭০ টাকায়, আস্ত শুকনো মরিচ (ভারতীয়) ৩০-৪০ টাকা কমে ৩৭০ টাকায় এবং দেশীয় (পঞ্চগড়) মরিচ ২২-২৩ টাকা কমে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৬৭-২৬৮ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে শুকনো আস্ত হলুদ ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি ১৭৫ টাকায়, কালোজিরা (ভারতীয়) ৬০ টাকা কমে ২৪০ টাকায়, কালোজিরা (দেশীয়) ৪০ টাকা কমে ২৩০ টাকায়, মেথি ৫-১০ টাকা কমে ১২৫ টাকায়, তেজপাতা ১০-১৫ টাকা কমে ৮০ টাকায়, রাঁধুনি মসলা ১০ টাকা কমে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাজারে কয়েকটি মসলাপণ্যের দাম বেড়েছে। তার মধ্যে দারচিনির দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা বেড়ে ৩৪৫ টাকা, আস্ত ধনিয়া ১০-১৫ টাকা বেড়ে ১৮০ -১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজার থেকে আমদানি সংকট ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় ছয় মাস ধরে দেশের মসলার বাজার ছিল অস্থির। বিশেষত কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজার সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া, এলসি খুলতে জটিলতার কারণে আমদানি কমে যায়। আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারেও মসলার দাম বেড়ে যায়। এখন বিশ্বব্যাপী মসলার উৎপাদন বাড়ায় দাম কমেছে। দেশেও আমদানি বেড়েছে। এ কারণে দাম কমতে শুরু করেছে।
মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক অমল সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগামী কয়েক মাস গরম মসলার চাহিদা কম থাকবে। এ কারণে পাইকারি বাজারে দামও স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছে।’ দাম কমার এ ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে গরম মসলার দাম আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মসলার বাজারের বৃহৎ অংশই মূলত আমদানিনির্ভর। দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি মসলা আসে ভারত ও চীন থেকে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার, গুয়েতেমালা, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মসলা আমদানি করে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণভাবে শুধু ধনিয়া, মিষ্টি জিরা, মরিচ, হলুদ, তেজপাতা, কালোজিরাসহ হাতেগোনা কয়েকটি মসলা উৎপাদন হয়। তবে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় এসব পণ্যেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করতে হয়।