আসন্ন উৎসবের মৌসুমকে কেন্দ্র করে ভারতে চিনির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সম্প্রতি যে রেকর্ড দরবৃদ্ধি ঘটেছে, তা মূলত জল্পনাভিত্তিক কেনাকাটার কারণে হয়েছে, সরবরাহে ঘাটতির জন্য নয়। দেশটির শীর্ষ চিনি শিল্প সংস্থার প্রধান গত সোমবার এ কথা জানান। খবর রয়টার্স।
ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (ইসমা) সভাপতি নীরজ শিরগাওকার জানান, দেশটিতে চিনির সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চিনির চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তবে এবারও উৎসবে চিনির কোনো ঘাটতি হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ভারতে দুই মাসে চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ১০ বছর পর ১০ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে। শিরগাওকার জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। জল্পনাভিত্তিক কেনাকাটার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাজারের অস্থিরতা কমাতেই সরকার চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে।
ইসমা জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাওয়া চলতি বিপণন বছরে ভারতে ২ কোটি ৭৯ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। যদিও দেশটির বার্ষিক চাহিদা ২ কোটি ৮০ থেকে ২ কোটি ৮৫ লাখ টন, তাও এ উৎপাদন গত বছরের ২ কোটি ৬১ লাখ টনের চেয়ে বেশি। এর মধ্যে কলগুলো ৩ লাখ টন চিনি ইথানল তৈরিতে পাঠিয়েছে এবং ৮ লাখ টন রফতানি করেছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, নতুন বিপণন বছরে ভারতের হাতে প্রায় ৩৫ লাখ টন প্রারম্ভিক মজুদ থাকবে। যা আগের বছর ছিল ৫০ লাখ টন। তবে সংগঠনটির মতে, মজুদ কমলেও দেশে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।