রুশ ধনকুবেরদের সম্পদ অর্ধ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়েছে

গত বছর রাশিয়ার অতিধনীদের সম্পদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

গত বছর রাশিয়ার অতিধনীদের সম্পদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। প্রাকৃতিক সম্পদের উচ্চমূল্যই সম্পদের এমন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ধনীরা যে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছিল, তা থেকে উঠে আসতে পেরেছে। ফোর্বস রাশিয়ার সাম্প্রতিক উপাত্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

রাশিয়ায় এখন তালিকাভুক্ত বিলিয়নেয়ার রয়েছেন ১১০ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ জন বেশি বলে জানিয়েছে ফোর্বসের রুশ সংস্করণ। তথ্য বলছে, তাদের মূল সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে। এর আগে ২০২২ সালের তালিকায় তাদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। 

তবে পাঁচজন বিলিয়নেয়ার থাকলে তালিকাটি আরো বেশি দীর্ঘ হতো। ডিএসটি গ্লোবাল প্রতিষ্ঠাতা ইউরি মিলনার, রেভল্যুত প্রতিষ্ঠাতা নিকোলাই স্তোরোনস্কি, ফ্রিডম ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠাতা তিমুর তুর্লভ এবং জেটব্রেইনসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই দিমিত্রিভ ও ভ্যালেন্টিন কিপয়্যাতকভ তাদের রাশিয়ান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। গত বছর রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর রাশিয়ার প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করে পশ্চিমা দেশগুলো। সেই সঙ্গে পুতিনকে শাস্তি দেয়ার অংশ হিসেবে অনেক ধনী ব্যক্তি রাশিয়ার নাগরিকত্ব বর্জন করেন। 

ফোর্বস বলছে, গত বছরের রেটিংয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ছিল টাটকা। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে রুশ ধনকুবেরদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। 

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। তার পরও দেশটি বিশ্ববাজারে বিশেষ করে চীন, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেল, ধাতু ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করতে সক্ষম হয়। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ২০২৩ সালে রাশিয়ান প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দশমিক ৭ শতাংশ করেছে। পাশাপাশি তারা বলেছে, শ্রমিক স্বল্পতা ও পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের বহির্গমনের কারণে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়বে।

উরাল তেলকে বলা হয় রাশিয়ান অর্থনীতির প্রাণশক্তি, ২০২২ সালে এর ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল ৭৬ দশমিক শূন্য ৯ ডলার, যা ২০২১ সালে ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৯ ডলার। গত বছর সারের দামও ছিল বেশ বেশি। 

ফোর্বসের তালিকায় নতুন বেশকিছু বিলিয়নেয়ারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যারা হালকা খাবার, সুপারমার্কেট, রাসায়নিক, বিল্ডিং ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য বিক্রি করে অর্থ আয় করেছেন। এর অর্থ দাঁড়ায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ায় দেশীয় চাহিদা প্রবলভাবেই বেড়েছে। 

আরও