এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তদবিলের (আইএমএফ) সহায়তা না পেলেও সহজে বাস্তবায়নযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত একটি বাজেট দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ রোববার (৪ মে) ইতালির মিলানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক সভায় সংস্থাটির দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসেছিলেন। তিনি আমাদের অর্থনীতির অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন। আমরা বলেছি অর্থনীতির অবস্থা আগের চেয়েও ভালো। আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে অনেক সংস্কার করেছি। সবচেয়ে বড় বিষয় যেটা সেটা হলো বাণিজ্য। বাণিজ্য বিষয়ে বেসরকারি খাতে একটি সামিট অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের যে বিনিয়োগ সামিট হয়েছে সেটার প্রশংসা করেছে তারা। এডিবি এখন আমাদের অবকাঠামোর উন্নয়নে সহায়তা করছে। এটা তারা করতেই থাকবে। এছাড়া আরো কিছু পাইপলাইনে আছে। আমরা যেটা বলেছি আমাদের বাজেট সহায়তার বিষয় তাদের যেটা দেয়ার কথা ছিল সেটা ছাড়ের কথা বলেছি। এক্ষেত্রে তারা আইএমএফের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল। আমরা তাদের বলেছি যে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা তারা চাচ্ছে। এডিবি বলছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের জন্য ঢাকাতে একটা ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে।
আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়ে দেরি হওয়ার কারণে এডিবির বাজেট সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজেট সহায়তার বিষয় আইএমএফ দেখে। সেখানে তারা সামষ্টিক অর্থনীতির বিষয়ে জানতে চেয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি। আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে। তবে আইএমএফ বলছে- আমরা যে সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভালো করছি সেটার একটা চিঠি পেলে তারা আশ্বস্ত হতো। আমরা বলেছি আমরা সেটা দেব। তবে এখনই না, ধীরে-সুস্থে। আমরা চট করে আইএমএফের কঠিন শর্ত মেনে নিয়ে কিছুই করব না। আমরা আইএমএফের অর্থ ছাড়াই ভালো করছি। আমরা তো এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নেইনি।
আমাদের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে এডিবি কতটুকু সন্তুষ্ট এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এডিবি বলেছে অন্যান্য দেশের তুলনায় তোমাদের অর্থনীতি ভালো করছে। এক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী। আমাদের অর্জন নিয়ে তারা খুশি। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি, এটাও তারা জানে। আমরা তাদের বলেছি গ্রাজুয়েশনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাংলাদেশের উন্নয়নে এডিবি খেয়াল রাখছে। তারা আমাদের প্রকল্প সহায়তাসহ ব্যাংকিং খাত ও এনবিআরের যে সংস্কারগুলো আছে সেগুলোতে তারা সহায়তা করবে।
আমাদের প্রকল্প সহায়তার চেয়ে বাজেট সহায়তা বেশি প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে এডিবির কাছ থেকে স্বল্প মেয়াদে কোনো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাজেট সহায়তার একটা বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। তাদের সফট ল্যান্ডিয়ের উইন্ডো ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। তবে আমরা এটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বাজেট সহায়তায় আমরা তাদের বলেছি ‘ওসিএফ’ ফান্ড থেকে সহায়তা করতে। কিন্তু তারা বলেছে এ তহবিল সীমিত। তবে আমরা এটা দেখব।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাজেট সহায়তার জন্য আমরা কর বাড়াচ্ছি, করের পরিধি বাড়াচ্ছি। বাজেট সহায়তা নিয়ে যদি আইএমএফ অযৌক্তিক কিছু শর্ত দেয় তাহলে আমরা সেটা দেখব। আমাদের মূল ফোকাস হলো বাজেটে খরচ কমানো, দক্ষতা বাড়ানো। আমরা তো ব্যয়ের ব্যাপারে সচেতন। প্রকল্পের বিষয়েও আমরা অনেক সাবধান। দুইটা মিলে বাজেট সহায়তা নিয়ে হই হুল্লোড় পড়ে যাবে বিষয়টা এমন না। আমরা যদি আইএমএফ ও এডিবির সহায়তা নাও পাই তাও বাজেট দেব। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে আমরা বাজেট দেব। সহজে বাস্তবায়নযোগ্য ও বাস্তবসম্মত একটা বাজেট দেব।