১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সময়োপযোগী বলছে বিটিএমএ

স্থানীয় স্পিনিং শিল্পের সুরক্ষা ও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সরকারের এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

রফতানিমুখী শিল্পে ব্যবহারের জন্য ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে দীর্ঘদিনের বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে প্রকৃত রফতানিকারকদের জন্য নির্ধারিত শর্তে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে এ ধরনের সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় স্পিনিং শিল্পের সুরক্ষা ও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সরকারের এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। তবে সিদ্ধান্তটির ‘ক’ ও ‘খ’ দফা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ দুই সংগঠন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পক্ষ থেকে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রীকে দেয়া এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে প্রয়োজনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে। এর আগে সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা এক আদেশে এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাধীন ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিটিএমএ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, বন্ড সুবিধায় দীর্ঘদিন ধরে ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য এ ধরনের সুতার চাহিদা এবং দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর সক্ষমতার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় সুতার চাহিদা বাড়বে, বন্ধ ও আংশিক বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের সুযোগ বাড়বে। এতে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণও কমতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ বলছে, গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। অথচ পরবর্তী সময়ে সভার কার্যবিবরণীতে ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং রফতানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠন দুটির ভাষ্য, সভার আলোচনাবহির্ভূত বিষয় কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা তাদের বিস্মিত করেছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, এ শিল্প দীর্ঘদিনের বন্ড ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। হঠাৎ ডি-বন্ড ব্যবস্থা চালু হলে বিদেশী ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং রফতানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠন দুটির দাবি, বিশ্বের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশে শিল্পের প্রসারে বন্ড সুবিধা চালু ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হলেও বাংলাদেশে এর বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এতে দেশের রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি কাজে লাগাতে পারছে না বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

বিটিএমএ বলছে, নতুন ব্যবস্থায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহারের মাধ্যমে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকের ভ্যালু চেইনে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং সুতা আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমবে। এলডিসি উত্তরণের পর ন্যূনতম ৪০-৬০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও নতুন ব্যবস্থাকে কার্যকর মনে করছে বিটিএমএ। সংগঠনটি বলছে, ব্যাংক গ্যারান্টি ও সংশ্লিষ্ট সমিতির প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে আমদানি এবং আমদানীকৃত কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত পণ্য পুরোপুরি রফতানির পর গ্যারান্টি অবমুক্ত করার ব্যবস্থা থাকায় স্থানীয় বাজারে বন্ড সুবিধায় আনা সুতা অবৈধভাবে বিক্রির সুযোগ কমবে।

আরও