এআই চিপ রফতানিতে নতুন নিয়ম করছে যুক্তরাষ্ট্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উন্নত মানের চিপ।

এ চিপ রফতানির ক্ষেত্রে একটি নতুন ও কঠোর নীতিমালা তৈরির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এমন একটি নিয়ম চালুর কথা ভাবছে যেখানে বিদেশী রাষ্ট্রগুলোকে মার্কিন এআই চিপ পেতে হলে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে কোনো দেশ যদি দুই লাখ বা তার বেশি চিপ কিনতে চায়, তবে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার নির্মাণ বা বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগের শর্ত দেয়া হতে পারে।

নতুন এ প্রস্তাবিত নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো আমেরিকার প্রযুক্তি খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে দেশটির অর্থনীতিতে বিদেশী বিনিয়োগ টেনে আনা। আগের জো বাইডেন প্রশাসনের নীতি ছিল ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোকে চিপ রফতানির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেয়া। তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন সে পথে না গিয়ে চিপ বিক্রির বিষয়টিকে একটি দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। ফলে এনভিডিয়া বা এএমডির মতো বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন অন্য দেশে চিপ পাঠাবে, তখন মার্কিন সরকার কঠোরভাবে নজরদারি করবে।

রয়টার্সের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, এমনকি এক হাজারেরও কম চিপের ছোট চালানের জন্যও লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। কোনো দেশ যদি এক লাখ পর্যন্ত চিপ পেতে চায়, তবে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আর যদি চিপের পরিমাণ দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা প্রয়োজনে ওই দেশে গিয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করতে পারেন। এসব কড়াকড়ির মূল লক্ষ্য হলো, উন্নত চিপ ব্যবহার করে যেন কোনো দেশ আমেরিকার জন্য ক্ষতিকর শক্তিশালী ‘ক্লাস্টার’ বা সুপার কম্পিউটার তৈরি করতে না পারে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এ মডেলে চুক্তি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। ওই দেশগুলো মার্কিন চিপ পাওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করতে রাজি হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নীতিমালার কারণে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়বে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এতে করে চিপের অবৈধ পাচার বন্ধ হবে এবং মার্কিন প্রযুক্তির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরো মজবুত হবে। বর্তমানে রাশিয়ার মতো কালো তালিকাভুক্ত দেশগুলোয় এ চিপ রফতানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে চীনের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো কিছুটা ভিন্ন হলেও সেখানেও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কড়াকড়ি বজায় রাখা হয়েছে।

আরও