দেশটির তেলবীজ উৎপাদনের সামগ্রিক এলাকা স্থিতিশীল থাকলেও চাষাবাদের ধরনে এ পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস) তাদের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বসন্ত মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় তেলবীজ উৎপাদনের লক্ষ্য ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমে মোট ৮৬ লাখ হেক্টর জমিতে তেলবীজ চাষের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের গড় চাষ এলাকার সমান।
এফএএসের তথ্যানুযায়ী, আগামী মৌসুমে সূর্যমুখী উৎপাদন ১ কোটি ২৮ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে সরিষা উৎপাদন ২৫ শতাংশ বেড়ে ৪০ লাখ টনে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সয়াবিন উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে ৪৭ লাখ টন হতে পারে। কৃষকরা সয়াবিনের চেয়ে অন্যান্য তেলবীজ চাষে বেশি আগ্রহী হওয়ায় এ পরিবর্তন আসছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, কৃষকরা এরই মধ্যে ১৩ লাখ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সরিষা রোপণ করেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। বাকি জমিতে সূর্যমুখী ও সয়াবিন চাষ করা হবে। সূর্যমুখী চাষের জমি ৬ শতাংশ বেড়ে ৫৪ লাখ হেক্টর হতে পারে এবং সয়াবিন ১১ শতাংশ কমে ১৮ লাখ হেক্টর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাষাবাদের এ পরিবর্তনের প্রভাব ইউক্রেনের রফতানি বাজারেও পড়বে। ২০২৬-২৭ মৌসুমে সূর্যমুখী বীজ রফতানি ১৪ শতাংশ কমে ৩০ হাজার টন হতে পারে। একইভাবে সয়াবিন রফতানি ১৫ শতাংশ ও সরিষা ৫ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলবীজ মাড়াই বা প্রক্রিয়াজাতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রফতানি কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সূর্যমুখী তেল রফতানিকারক দেশ। আগামী বছর দেশটি থেকে সূর্যমুখী তেল রফতানি পাঁচ লাখ টন বেড়ে মোট ৫০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এছাড়া সরিষা তেল রফতানি ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে যুদ্ধের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের চাহিদা কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে ইউক্রেন এখন আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা মেটাতে সরিষা ও সূর্যমুখী উৎপাদনে বিশেষ জোর দিচ্ছে।