রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অব্যাহতিপ্রাপ্ত শীর্ষ নির্বাহীরা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিন বছর মেয়াদে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির এমডি ও শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর যোগ দিয়েছিলেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম। নিয়োগপত্রে মেয়াদ তিন বছর ধরা হলেও দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে অব্যাহতি দিল সরকার। একইভাবে বেসিক ব্যাংকের এমডি মো. কামরুজ্জামান খান ও বিডিবিএলের এমডি মো. জসীম উদ্দিনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত চিঠি রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি ব্যাংকেরই চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।
চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে এমডির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি। দ্রুতই হয়তো নতুন এমডি নিয়োগের চিঠিও পাব। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য শীর্ষ নির্বাহী দরকার। আশা করছি, আমাদের প্রত্যাশা পূর্ণ হবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও এমডি পদে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ ব্যাংকগুলোর পর্ষদে ১৫ জন নতুন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ১০ জনকে অপসারণ করা হয়েছিল। এ ধারাবাহিকতায় গতকাল তিন এমডির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ তিন ব্যাংকের এমডি নিয়োগের পাশাপাশি অন্য ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে।’
প্রসঙ্গত, দেশে সরকারের মালিকানাধীন তফসিলি ব্যাংক রয়েছে নয়টি। এর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। আর বিশেষায়িত তিন ব্যাংক হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। এর বাইরে তফসিল-বহির্ভূত রয়েছে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক।