দেশের আবাসন খাতে অর্থায়নকারী অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রায় ৮১ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ৭৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের প্রকাশিত ২০২৬ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের নিট সুদ আয় হয়েছে ১৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১০০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটি ২০৬ কোটি টাকা পরিচালন আয় করেছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯৯ কোটি টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৯৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৬৭ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৩ পয়সায়।
ডিবিএইচের আর্থিক ফলাফল সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন বলেন, ‘২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফল আমাদের পরিচালনগত দক্ষতা, দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিচক্ষণ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার প্রতি অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাজারের প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি আরো বেশি মানুষের নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিন দশক ধরে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি গৃহঋণ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে বাড়ির মালিকানা অর্জনে মানুষকে সহায়তা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ইসলামিক ফাইন্যান্স উইংয়ের মাধ্যমেও আবাসন অর্থায়ন সুবিধা দেয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি মেয়াদি আমানত ও মুদারাবা আমানতসহ বিভিন্ন ধরনের আমানত সেবা দেয়। দেশজুড়ে অবস্থিত ১৯টি শাখার মাধ্যমে ডিবিএইচ গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি টানা ২১ বছর ধরে সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিং ‘এএএ’ অর্জন করেছে এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে খেলাপি ঋণের হার ১ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৯৭ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৫৫ পয়সায়।
২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডিবিএইচের অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২০২ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৯৬ কোটি ৭৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২০ কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৪। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ৩২ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের, ৩২ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও দশমিক ৫৪ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এবং ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।