মূলত সুদহার বৃদ্ধির পূর্বাভাস এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে মূল্যবান এ ধাতুর দামে বড় ধস নেমেছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
আন্তর্জাতিক বাজারে গত মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৩ হাজার ৯৪২ ডলার ৯৯ সেন্টে নেমে আসে, যা গত নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। পরে দাম কিছুটা বাড়লেও গত তিন মাসে প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। বছরের শুরুতে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। খুচরা ব্যবসায়ীদের বাড়তি আগ্রহের কারণে গত জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারে উঠেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ারশ দায়িত্ব নেয়ার পর সুদহার বাড়ানোর আভাস দেন। এতে বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়।
বিশ্লেষকরা জানান, স্বর্ণ থেকে লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগ না থাকায় বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ডের মতো লাভজনক খাতে ঝুঁকছেন। এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি ও সুদহার দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী লোকসান এড়াতে স্বর্ণের বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি খাতের শেয়ার এবং স্পেস-এক্সের মতো লাভজনক প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিনিয়োগের জন্য অনেকে স্বর্ণ বিক্রি করছেন। এছাড়া স্বর্ণের ইটিএফ তহবিল থেকে অর্থ তুলে নেয়া এবং চীনে খুচরা গ্রাহকদের ফিউচার ট্রেডিংয়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বাজারে চাপ আরো বেড়েছে।