ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত

দ‌ক্ষিণ কো‌রিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে তিন কার্গো এলএন‌জি কিনবে সরকার

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাজ্য থেকে এক কার্গো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় সার কেনা-সংক্রান্ত আরো দুটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে তাতে অনুমোদন দেয় কমিটি। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৩০ কোটি ৮১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩২ টাকা। এর মধ্যে ১৫-১৬ জুন ২০২৬ সময়ের জন্য ২৩তম কার্গো, ২১-২২ জুন সময়ের জন্য ২৪তম কার্গো এবং ২৫-২৬ জুন সময়ের জন্য ২৫তম কার্গো আমদানি করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ১৫তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এতে ব্যয় হবে ২৫৪ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬২ টাকা। প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৬৮৮ দশমিক ৩৭৫ ডলার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ১২তম লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৪৩৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ টাকা। প্রতি টন সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮১ দশমিক ৬৭ ডলার।

এছাড়া গতকাল অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দুটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তিন লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেনা-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য টিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পরবর্তী ছয় মাস কিংবা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত একই দরে ও শর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বর্তমান ঠিকাদারকে নিয়োগের ঘটনা-উত্তর অনুমোদন দেয়া হয়।

আরও