কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্সের শর্ত শিথিল, অস্থাবর সম্পত্তিকে সহায়ক জামানত হিসেবে বিবেচনা ও জামানতবিহীন ঋণকে উৎসাহ দেয়ার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
গতকাল সোমবার (৬ জানুয়ারি) এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বেসরকারি অংশীজনদের অংশগ্রহণে এক নীতি সংলাপ অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে।
সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তাফা ও ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজিম হাসান সাত্তার বক্তব্য দেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সিএমএসএমই খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলো হলো— ট্রেড লাইসেন্সের শর্ত শিথিল করা, অস্থাবর সম্পত্তিকে জামানত হিসেবে গ্রহণ করা, জামানতবিহীন ঋণ প্রদান উৎসাহিত করা, কটেজ ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা সুদের হার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ব্যাংকের বার্ষিক মুনাফা থেকে সিএসআর তহবিলের একটি অংশ সহজ শর্তে ঋণ প্রদানে ব্যবহার করা এবং এসএমই ঋণে ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা চালু করা। পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানাকে ভিন্ন ক্যাটাগরিতে অর্থায়ন করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
প্রতিনিধিরা আরো জানান, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, যেমন— বিসিক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জয়িতা ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তাফা বলেন, নীতি সংলাপে পাওয়া যৌক্তিক সুপারিশগুলো নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করবে।
ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার বলেন, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে নীতিমালা হালনাগাদ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উদ্যোক্তাবান্ধব ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জোর দেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, নীতিমালা হালনাগাদের মাধ্যমে সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে আরো বেশি সুবিধা পাবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৩২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে ৭৮ লাখের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশের বেশি। এ খাতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ কাজ করছেন।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছে। এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার উদ্যোক্তা প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন।