২০২৬ সালে ব্রাজিলে কফি উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের পূর্বাভাস

২০২৬ সালে কফি উৎপাদনে নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে ব্রাজিল।

২০২৬ সালে কফি উৎপাদনে নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে ব্রাজিল। দেশটির জাতীয় সরবরাহ সংস্থা কোনাবের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে কৃষিপণ্যটির মোট উৎপাদন পৌঁছতে পারে ৬ কোটি ৬২ লাখ ব্যাগে (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি)। এ প্রাক্কলন বাস্তবায়ন হলে ২০২৫ সালের তুলনায় ব্রাজিলে কফি উৎপাদন বাড়তে পারে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। খবর গ্লোবাল টাইমস।

‘ফার্স্ট কফি ক্রপ সার্ভে ২০২৬’ কোনাব জানায়, অনুকূল আবহাওয়া এবং উৎপাদন কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তনের সমন্বিত প্রভাবেই এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হচ্ছে। ব্রাজিল এরই মধ্যে কফির ‘পজিটিভ বায়েনিয়ালিটি’ বা দ্বিবার্ষিক চক্রের ইতিবাচক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টরে পৌঁছতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নত আবহাওয়া পরিস্থিতি, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত কৃষি ব্যবস্থাপনার কারণে ব্রাজিলে কফির গড় উৎপাদন বেড়ে হেক্টরপ্রতি ৩৪ দশমিক ২ ব্যাগে দাঁড়াতে পারে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

কোনাব জানিয়েছে, এটি কেবল স্বল্পমেয়াদি আবহাওয়াজনিত সুবিধার ফল নয়। বরং দেশটির কফি উৎপাদন ব্যবস্থায় ধারাবাহিক কাঠামোগত উন্নতির প্রতিফলন।

সংস্থাটি আরো জানায়, ব্রাজিলে ২০২৬ সালে অ্যারাবিকা কফির উৎপাদন ৪ কোটি ৪১ লাখ ব্যাগে পৌঁছতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এ সময় দেশটিতে কনিলন (রোবাস্তা) কফির উৎপাদন হতে পারে ২ কোটি ২১ লাখ ব্যাগ, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

ব্রাজিলের প্রধান কফি উৎপাদনকারী রাজ্য এবং অ্যারাবিকার সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী অঞ্চল মিনাস জেরাইস। এ অঞ্চলে চলতি বছর কৃষিপণ্যটির মোট উৎপাদন পৌঁছতে পারে ৩ কোটি ২৪ লাখ ব্যাগে। এ সময় সাও পাওলোয় উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৫৫ লাখ ব্যাগে।

বাহিয়ায় মোট কফি উৎপাদন ৪ শতাংশ বেড়ে ৪৬ লাখ ব্যাগে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ লাখ ব্যাগ অ্যারাবিকা এবং ৩৪ লাখ ব্যাগ কনিলন। দেশটির সবচেয়ে বড় কনিলন উৎপাদনকারী রাজ্য এস্পিরিতু সান্তোয় উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যাগে পৌঁছতে পারে, যার মধ্যে ১ কোটি ৪৯ লাখ ব্যাগই কনিলন। রাজ্যটির উত্তরাঞ্চলে অনুকূল বৃষ্টিপাত এ ফলনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখবে।

আরও