হরমুজ প্রণালি সংকট

সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কায় দাম বাড়ছে এলএনজির

বিশ্ববাজারে সেপ্টেম্বরের শুরুতে গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির প্রায় ২৫ ডলারে পৌঁছায়। এমনকি চুক্তিভেদে ৩০ ডলার অতিক্রমের খবরও জানা যায়। এ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহক এবং শিল্প কারখানাগুলোর পরিচালনা ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের মতো চরম দরবৃদ্ধির পুনরাবৃত্তি হয়তো ঘটবে না। সে সময় প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ৫০ থেকে ৭৫ ডলারে উঠে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পর এবার প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ছে হুহু করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে বড় ধরনের বাধা। ফলে আসন্ন শীত মৌসুমে বিশ্ববাজারে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো ঘনীভূত হচ্ছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

বিশ্ববাজারে সেপ্টেম্বরের শুরুতে গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির প্রায় ২৫ ডলারে পৌঁছায়। এমনকি চুক্তিভেদে ৩০ ডলার অতিক্রমের খবরও জানা যায়। এ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহক এবং শিল্প কারখানাগুলোর পরিচালনা ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের মতো চরম দরবৃদ্ধির পুনরাবৃত্তি হয়তো ঘটবে না। সে সময় প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ৫০ থেকে ৭৫ ডলারে উঠে।

ইউরোপের জন্য এ পরিস্থিতি আরো জটিল। শীতকালে ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাসের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই শীতের আগেই অঞ্চলগুলোতে গ্যাসের মজুদ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু গ্রীষ্মে গ্যাসের দাম কম থাকায় অনেক ব্যবসায়ী দীর্ঘমেয়াদে তা মজুদে ইচ্ছুক ছিলেন না। আর এখন দাম বাড়ার পাশাপাশি ইউরোপকে এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে এলএনজি সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।

হরমুজ সংকট সেই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধের আগে এ সমুদ্রপথে যে পরিমাণ এলএনজি পরিবহন হতো, এখন তার ১০ শতাংশেরও কম হচ্ছে। এলএনজির ট্যাংকারগুলো আকারে বড় এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এ পথে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি তেলের বাজারে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। মাইন অপসারণ ও মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহও কিছুটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এলএনজির ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ এখনো ৪ ডলারের নিচে রয়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন এলএনজি রফতানিও বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও তার প্রভাব মার্কিন ভোক্তাদের ওপর সরাসরি পড়ছে না।

বিশ্লেষকেরা অবশ্য মনে করছেন, ২০২২ সালের মতো পরিস্থিতি এবার হওয়ার সম্ভাবনা কম। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া গ্যাসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে। চীনেরও গ্যাসের বিকল্প উৎস রয়েছে। এ ছাড়া উত্তর আমেরিকা থেকে নতুন এলএনজি সরবরাহ এবং বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ায় কিছুটা চাপ কমতে পারে। তবে এ বছর শীত বেশি হলে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে পারে। ফলে আগামী শীত মৌসুম আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

আরও