দেশের মসলা বাজারে মিশ্র প্রবণতা

হিলিতে জিরা-এলাচের দাম নিম্নমুখী ভোমরায় শুকনা হলুদ ঊর্ধ্বমুখী

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের মসলা বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মসলার আমদানি বাড়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা হলুদের আমদানি কমায় বাজারে দাম বেড়েছে। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ায় আমদানির এ ওঠানামা সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

হিলি স্থলবন্দর কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ২৬ হাজার টন জিরা, বাদাম, এলাচ, কিশমিশ ও কাজুবাদাম আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জিরা ও এলাচই আমদানি হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন। বর্তমানে প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে আট থেকে ১০ ট্রাক মসলা আমদানি করা হচ্ছে।

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে এক মাসের ব্যবধানে জিরার দাম কেজিতে ৭০ টাকা কমে এখন ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও জিরার দাম ৬০০ টাকার ওপরে ছিল। ভালো মানের সাদা এলাচের দাম কেজিতে ৫০০ টাকা কমে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। আদার দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে এখন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৩০ টাকা। দেশী আদার সরবরাহ কম থাকায় বাজারে আমদানি করা আদার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আমদানি বাড়ায় আদার দামও কমেছে।

হিলি বন্দরের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে বাজারে মসলাজাতীয় পণ্যের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে এসব পণ্য নিয়মিত আমদানি করা হচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি থেকে খুচরা সব পর্যায়েই দাম কমেছে। আমদানির এ ধারা অব্যাহত থাকলে আসন্ন কোরবানির ঈদে মসলার দাম নতুন করে বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমদানি করা পণ্যের মধ্যে সাদা এলাচ, আদা, জিরা, কিশমিশ, কাজুবাদাম ও মৌরির পরিমাণই বেশি। আমদানি করা আদার বড় অংশই যাচ্ছে গাইবান্ধা, রংপুর, বগুড়া, নীলফামারী ও লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়।

হিলি স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজ্জাসী পারভেজ জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মসলাজাতীয় পণ্য দ্রুত খালাস করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশেষ করে আদার মতো পচনশীল ও কাঁচাপণ্য দ্রুত খালাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা হলুদ আমদানি কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে গুঁড়া হলুদের দাম বেড়েছে।

ভোমরা কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে শুকনা হলুদ আমদানি হয়েছে ১৮ হাজার ২৫৪ টন। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২৫ হাজার ৭৯৬ টন। সেই হিসাবে এ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বন্দর দিয়ে হলুদ আমদানি কমেছে ৭ হাজার ৫৪২ টন। ভারতে সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি দাম বাড়ায় আমদানি কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সাতক্ষীরার খুচরা বাজারে। সুলতানপুর বড় বাজারে দুই-তিন সপ্তাহ আগেও যে গুঁড়া হলুদ প্রতি কেজি ৩০০-৩১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, গতকাল তা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ খুচরা পর্যায়ে গুঁড়া হলুদের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ জানান, আমদানিনির্ভর যেকোনো পণ্যের সরবরাহ কমলে বাজারে তার প্রভাব পড়ে। তবে হলুদের দাম আকস্মিক বাড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও