এ সময় প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া এক্সচেঞ্জটি অন্যান্য সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ সময়ে এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকার। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার কারণে গত সপ্তাহে সাধারণ বীমা খাত ও বস্ত্র খাতে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৮৯ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১৬টির, কমেছে ১৫৫টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। আর লেনদেন হয়নি ২৩টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে সাধারণ বীমা খাত ও বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ করে দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত ও বস্ত্র খাত। ১০ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ১ শতাংশ। ব্যাংক খাত ৮ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিমেন্ট খাতে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৫ শতাংশ, চামড়া খাতে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, ব্যাংক খাতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং পাট খাতে ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২ শতাংশ, কাগজ ও ভ্রমণ খাতে দশমিক ৬ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাতে দশমিক ৪ শতাংশ ও জীবন বীমা খাতে দশমিক ১ শতাংশ।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৮১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৭০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৪৯৩ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৬৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৯০ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৯টির, কমেছে ১১৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির বাজারদর।