বিশ্বের অন্যতম বড় ও সুপরিচিত কফি চেইন স্টারবাকস। যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে গত ৫৫ বছরে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এখন সে ব্যবসা ধরে রাখতেই নতুন কৌশল নিতে হচ্ছে কফি চেইনটিকে। ব্যবসায়িক চাপ সামাল দিতে একদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্ধ করা হচ্ছে কম লাভজনক স্টোর, অন্যদিকে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে নতুন শপ খোলার পরিকল্পনা। এমনকি চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও স্থানীয় অংশীদারের হাতে ব্যবসার বড় অংশ ছেড়ে দিয়ে নতুনভাবে এগোনোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ও পুরো বছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্টারবাকস। এতে দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৮০ দেশে ৪০ হাজার স্টোর পরিচালনা করা কোম্পানিটির গত প্রান্তিকে আয় ৪ শতাংশ কমে ৯১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পুরো অর্থবছরে আয় সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯০ কোটি ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, গত প্রান্তিকে আয় কমার প্রধান কারণ কেবল বিক্রি কমে যাওয়া নয়, বরং চীনে স্টারবাকসের ব্যবসায়িক কাঠামোগত পরিবর্তন এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনে সরাসরি পরিচালিত কফিশপগুলোর একটি বড় অংশ যৌথ উদ্যোগে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) রূপান্তর করেছে। ফলে ওই শাখাগুলো থেকে প্রাপ্ত মোট বিক্রির পুরো অর্থ এখন আর স্টারবাকসের মূল আয়ে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে, একই সঙ্গে দোকানগুলো লাভজনকভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চীনের বাজারে স্থানীয় কফি ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
দোকান বন্ধ করে ব্যবসা পুনর্গঠন
স্টারবাকসের ব্যবসা পুনর্গঠনের সবচেয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ হলো উত্তর আমেরিকায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অঞ্চলটিতে প্রায় ২৫০টি কফিশপ বন্ধ করেছে কোম্পানিটি। মূলত প্রত্যাশিত মুনাফা দিতে ব্যর্থ দোকানগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
চীনে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তন
স্টারবাকসের জন্য চীন দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দেশটিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিস্তার ও কফি পানকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একপর্যায়ে চীনে স্টারবাকসের কফিশপের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় আট হাজারে। কিন্তু গ্রাহকদের চাহিদা পরিবর্তনে সম্প্রতি বাজারটির পরিস্থিতি বদলেছে।
ফাস্ট কোম্পানি ও সিএনবিসি অবলম্বনে